চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনায়, মুখোশধারী একদল ডাকাত অস্ত্রের মুখে নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে ৪টি গরু এবং নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা এলাকায় নুরুল আলমের বাড়িতে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুল আলম পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে নুরুল আলম তার বসতঘরের পাশে গোয়ালঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে প্রায় ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল গোয়ালঘরের লোহার শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে নুরুল আলমকে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ডাকাতরা বসতঘরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুট করে। একই সাথে গোয়ালঘর থেকে লাল বর্ণের চারটি ষাঁড় গরুও নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নুরুল আলম জানিয়েছেন, ডাকাতদের কাছে বন্দুক, পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তিনি আরও জানান, লুট হওয়া নগদ টাকাগুলো গরু ও মাছ বিক্রির অর্থ এবং এক স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া পাওনা ছিল, যা আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা ও ঘর মেরামতের জন্য সংরক্ষণ করেছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব মনু মেম্বার জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করেন। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী নুরুল আলম মূলত চকরিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পটিয়ায় একটি কারখানায় চাকরির পাশাপাশি গরু লালন-পালন করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে কেলিশহর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ভাটিখাইন, পৌর সদর ও নাইখাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গরু ও মহিষ চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























