বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় নৌপুলিশের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘাট ও ব্যবসায়িক পয়েন্ট থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্পিডবোটে অগ্নিকাণ্ড, সরকারি তেল আত্মসাৎ এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের অডিও-ভিডিও প্রমাণ থাকার দাবিও উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মোংলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইন্সপেক্টর এ এইচ এম লুৎফুল কবির নিজেই লোক মারফত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করছেন। এই কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে একটি সংগঠিত চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামে দেওয়া হচ্ছে বলে প্রচার করা হয় এবং বাকি অংশ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মাদ্রাসা রোড, রকেট ঘাট, কুমারখালী, আনসার ক্লাব এলাকা, জেটি ঘাট, মামার ঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন ধরে এই চাঁদা আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তালিকাভুক্ত একাধিক ব্যবসায়ী, দোকানদার, নৌযান মালিক ও মাঝিদের কাছ থেকে মাসিক নির্ধারিত হারে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসিক এককালীন ৬৫ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনাও অভিযোগে উঠে এসেছে। স্থানীয়ভাবে মদ বিক্রেতা সরোয়ারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নির্ধারিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে নিয়মিত চাঁদা প্রদান করছেন। এতে পুরো এলাকায় একধরনের নীরব চাপ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই চাঁদাবাজির সঙ্গে নৌ পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করা হলেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 

























