বগুড়ার শেরপুর থানায় ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এক নারী উপপরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন জানান, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি সকালে থানায় যান। এ সময় ডিউটিরত এসআই রোখসানা খাতুনকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে কথা বলতে চাইলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তাকে গালাগালি করে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে নাম আসা পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসআই রোখসানা খাতুন। তিনি গত ১৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে শেরপুর থানায় যোগদান করেন। ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা যায়, এসআই রোখসানা খাতুন যোগদানের পর থেকেই থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে নানা মহলে অসন্তোষ রয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া রেজাউল করিম, আলী হাসান ও নাইম ইসলাম অভিযোগ করেন, তারা পূর্বে থানায় গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন এবং ধমক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইমরান হোসেন নামের একজন জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একাধিক পুলিশ সদস্য বলেন, এসআই রোখসানা খাতুনের আচরণ ও মেজাজের কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। তার ডিউটির সময় কর্মপরিবেশ তুলনামূলকভাবে চাপপূর্ণ থাকে বলেও তারা উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও কিছু মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
রিপোর্টারের নাম 

























