ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ঢাবিতে নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যায় প্রাণবন্ত আলোচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রাচ্যের প্রখ্যাত কবি আল্লামা মোহাম্মদ ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা’ আয়োজিত হয়েছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইকবাল বিষয়ক একটি পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ইকবালিয়াত আলোচনা কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি একাডেমিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা আল্লামা ইকবালের দর্শন, তার চিন্তাধারা এবং সমসাময়িক বিশ্বে তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলাই, ইরানি কবি ও আলেম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ এবং ঢাবির উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও কবি জাকির আবু জাফর, লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ তানিম নওশাদ, ড. ফজলুল হক তুহিন, ইকবাল গবেষক আবদুল কাদের জিলানী এবং গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল ‘ফিকরে ইকবাল’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ইকবালিয়াত অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, হৃদয়গ্রাহী গজল ও কাওয়ালি পরিবেশনা এবং একটি লাইভ কুইজ প্রতিযোগিতা। এই সকল আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের মাঝে আল্লামা ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইকবাল শুধুমাত্র পাকিস্তানের কবি নন, তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি। তার কবিতা মুসলিম জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘদিনের দাসত্বে আবদ্ধ জনগণকে সচেতনতা দান করেছে।

ইরান থেকে আগত বক্তা ইকবালের কবিতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইকবালের কাব্য কেবল পাকিস্তান নয়, ইরানের জন্যও জাগরণের বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, বর্তমান ইরানি জাতি যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে, তার পেছনেও ইকবালের চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা ইরানের তরুণদের জাগ্রত করেছে।

সামাজিক ও বিপ্লবী নেতা আরিফ সোহেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইকবালের কবিতা প্রতিটি যুগের বিপ্লবের জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা পূর্ববর্তী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ইকবালের চিন্তা থেকে অর্জিত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

ঢাবিতে নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যায় প্রাণবন্ত আলোচনা

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রাচ্যের প্রখ্যাত কবি আল্লামা মোহাম্মদ ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা’ আয়োজিত হয়েছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইকবাল বিষয়ক একটি পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ইকবালিয়াত আলোচনা কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি একাডেমিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা আল্লামা ইকবালের দর্শন, তার চিন্তাধারা এবং সমসাময়িক বিশ্বে তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলাই, ইরানি কবি ও আলেম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ এবং ঢাবির উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও কবি জাকির আবু জাফর, লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ তানিম নওশাদ, ড. ফজলুল হক তুহিন, ইকবাল গবেষক আবদুল কাদের জিলানী এবং গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল ‘ফিকরে ইকবাল’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ইকবালিয়াত অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, হৃদয়গ্রাহী গজল ও কাওয়ালি পরিবেশনা এবং একটি লাইভ কুইজ প্রতিযোগিতা। এই সকল আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের মাঝে আল্লামা ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইকবাল শুধুমাত্র পাকিস্তানের কবি নন, তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি। তার কবিতা মুসলিম জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘদিনের দাসত্বে আবদ্ধ জনগণকে সচেতনতা দান করেছে।

ইরান থেকে আগত বক্তা ইকবালের কবিতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইকবালের কাব্য কেবল পাকিস্তান নয়, ইরানের জন্যও জাগরণের বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, বর্তমান ইরানি জাতি যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে, তার পেছনেও ইকবালের চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা ইরানের তরুণদের জাগ্রত করেছে।

সামাজিক ও বিপ্লবী নেতা আরিফ সোহেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইকবালের কবিতা প্রতিটি যুগের বিপ্লবের জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা পূর্ববর্তী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ইকবালের চিন্তা থেকে অর্জিত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।