লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরশহরে ইজারার নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক পান ব্যবসায়ীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার মুড়িহাটা এলাকা ইজারা নিয়েছেন মিজান সর্দার। কিন্তু তিনি নিজে ইজারার কাজটি না করে, নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সোনালী ব্যাংক সড়ক ও মেইন রোড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পান ব্যবসায়ী হারুন অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন ধরে তার কাছে ‘খাজনা’র নামে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে মাসিক ৬০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে প্রতিটি পানের টুকরি থেকে ৩০ টাকা এবং সর্বশেষ দৈনিক ৩০ টাকা দাবি করা হয়। এতে তিনি রাজি না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং তার গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, টাকা না দিলে তার মাল ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই ধরনের চাঁদাবাজির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মিজান সর্দারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মারামারির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার সঙ্গে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ইজারার শিডিউল অনুযায়ী খাজনা আদায় করছি, কোনো চাঁদা নয়।’
রায়পুর বাজার বণিক সমিতির কার্যকরী সদস্য তানভীর হাসান বলেন, ‘আমার জানা মতে ফুটপাতে ইজারা দেওয়ার বিধান নেই। কিন্তু সেখানে ফুটপাতে ইজারার নামে খাজনা আদায় করা দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিধি অনুযায়ী পৌরসভার ফুটপাত ইজারা দেওয়ার বিধান না থাকলেও খাজনা আদায়ের বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন আমি কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি আমি জেনেবুঝে তারপর বলতে পারব।’
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যবসায়ীদের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























