মানবসভ্যতার ইতিহাসে মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ এক সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়কালে জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এমন সব মৌলিক ও যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল, যা পরবর্তী যুগের বৌদ্ধিক বিকাশে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। আট থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্বর্ণযুগ ছিল মানব ইতিহাসের এক অনন্য সময়, যেখানে শিল্প-সাহিত্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের সমন্বিত বিকাশের ফলে অভূতপূর্ব বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি সাধিত হয়।
মুসলিম বিদ্বানরা কেবল পূর্ববর্তী জ্ঞানের ভান্ডারকেই সমৃদ্ধ করেননি, বরং নিজস্ব চিন্তা ও নতুন সাংস্কৃতিক কীর্তিও গড়ে তুলেছেন। তাদের এই সৃজনশীল সাধনা পরবর্তী সময়ে ইউরোপিয়ান রেনেসাঁর ভিত্তি স্থাপন করে দেয়। সপ্তম শতকে ইসলামের আবির্ভাবের মধ্যেই এই স্বর্ণযুগের সূচনার বীজ নিহিত ছিল। বাণিজ্য ও পরিধি বিস্তারের ফলে মুসলিম সভ্যতা দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাওহিদের সরল আহ্বান মানবসমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। এই সময়ে গড়ে ওঠা নানা শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে গ্রিক, রোমান, পারসিক ও ভারতীয় উৎসের জ্ঞান সংরক্ষণ, অনুবাদ এবং চর্চা করা হত, তা ভারতকে ইউরোপ পর্যন্ত ইসলামের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করে।
৭৫০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আব্বাসী খেলাফত মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগের বিকাশে প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। রাজধানী বাগদাদে গড়ে ওঠা বাইতুল হিকমাহ (House of Wisdom) দ্রুতই অনুবাদ, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে গ্রিক, সিরীয়, পারসিক ও ভারতীয় জ্ঞান আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। একই সময়ে কর্ডোভা ও কায়রোতেও গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয় এবং প্রাচীন জ্ঞান সংরক্ষণ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই যুগে মুসলিম পণ্ডিতদের সামনে ছিল বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক জ্ঞানভান্ডার। ইবনে সিনা তার বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘আলকানুন ফিততিব্ব’ রচনা করেন, যা দীর্ঘকাল বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত ছিল। অন্যদিকে আলফাজারি ও ইবনে তারিক ভারতীয় জ্ঞানের আলোকে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























