ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যা, লাশ পোড়ানোর অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সেনপাড়া গ্রামের কোহিনুর বেগম। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার কয়েকদিন পর প্রবাসীদের মাধ্যমে এই খবর জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নজরুল ইসলাম ২০১৮ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া যান এবং সেখানে একটি খামার গড়ে তোলেন। তিনি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন প্রাণী পালন করতেন। পরিবারের দাবি, মালয়েশিয়ার এক স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

নিহত নজরুলের বড় ভাই জানিয়েছেন, নজরুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সমস্যা চলছিল এবং তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল। নজরুল দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং খামারের সম্পদ বিক্রি করে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। নিহতের ভাগ্নি জানান, তার মামা দ্রুত দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন এবং অনেক কিছু নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন তিনি ন্যায়বিচার ও মরদেহ দেশে ফেরত আনার আকুতি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুল ইসলামের সঙ্গে কোহিনুর বেগমের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং কোহিনুর প্রায় দেড় মাস আগে নজরুলকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা বিয়ে করেন এবং একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মালয়েশিয়ায় গিয়ে নজরুল ইসলাম প্রথমে একটি পামবাগানে কাজ শুরু করেন। সেখানে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় তিনি কিছুদিন পালিয়ে ছিলেন। কোনো কাজ না পেয়ে অবশেষে এক ব্যবসায়ীর গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কুকুর-বিড়ালের ফার্মে চাকরি নেন। প্রায় ৪ বছর পর নজরুল ইসলাম নিজেই একটি আলাদা ফার্ম গড়ে তোলেন এবং পাশাপাশি চাকরিও চালিয়ে যান। অল্প দিনেই তার ব্যবসায় ব্যাপক সফলতা আসতে শুরু করে। তবে, এতেই তার ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বড় ধরনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দিকে পরিচালিত করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগর বাউলের লাইনআপে পরিবর্তন: রানা বিদায় নিলেন, যোগ দিলেন এলিন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যা, লাশ পোড়ানোর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সেনপাড়া গ্রামের কোহিনুর বেগম। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার কয়েকদিন পর প্রবাসীদের মাধ্যমে এই খবর জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নজরুল ইসলাম ২০১৮ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া যান এবং সেখানে একটি খামার গড়ে তোলেন। তিনি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন প্রাণী পালন করতেন। পরিবারের দাবি, মালয়েশিয়ার এক স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

নিহত নজরুলের বড় ভাই জানিয়েছেন, নজরুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সমস্যা চলছিল এবং তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল। নজরুল দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং খামারের সম্পদ বিক্রি করে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। নিহতের ভাগ্নি জানান, তার মামা দ্রুত দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন এবং অনেক কিছু নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন তিনি ন্যায়বিচার ও মরদেহ দেশে ফেরত আনার আকুতি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুল ইসলামের সঙ্গে কোহিনুর বেগমের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং কোহিনুর প্রায় দেড় মাস আগে নজরুলকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা বিয়ে করেন এবং একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মালয়েশিয়ায় গিয়ে নজরুল ইসলাম প্রথমে একটি পামবাগানে কাজ শুরু করেন। সেখানে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় তিনি কিছুদিন পালিয়ে ছিলেন। কোনো কাজ না পেয়ে অবশেষে এক ব্যবসায়ীর গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কুকুর-বিড়ালের ফার্মে চাকরি নেন। প্রায় ৪ বছর পর নজরুল ইসলাম নিজেই একটি আলাদা ফার্ম গড়ে তোলেন এবং পাশাপাশি চাকরিও চালিয়ে যান। অল্প দিনেই তার ব্যবসায় ব্যাপক সফলতা আসতে শুরু করে। তবে, এতেই তার ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বড় ধরনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দিকে পরিচালিত করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।