ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে কম্পিউটার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে উন্নত কম্পিউটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রচলিত কম্পিউটারের চেয়ে বহুগুণ দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার এমনই এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিশ্বে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং মূলত কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার মূল ভিত্তি হলো উপপারমাণবিক কণার আচরণ। বিখ্যাত বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইন ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা সমৃদ্ধ করেন।
প্রচলিত কম্পিউটার যেখানে বিট (০ বা ১) ব্যবহার করে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কিউবিট (Qubit) ব্যবহার করে। কিউবিট একই সাথে ০ এবং ১ উভয় অবস্থাতেই থাকতে পারে, যা সুপারপজিশন নামে পরিচিত। এর ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার একই সময়ে বিপুল সংখ্যক প্রসেসিং করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও, এনট্যাঙ্গেলমেন্ট (Entanglement) নীতির মাধ্যমে কিউবিটগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে, যা একটি কিউবিটের তথ্য থেকে অন্য কিউবিট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তবে, ডিকোহেরেন্স (Decoherence) কোয়ান্টাম কম্পিউটারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে কোয়ান্টাম অবস্থা ভেঙে নন-কোয়ান্টাম অবস্থায় চলে যায়। কিউবিটগুলোকে বাহ্যিক পরিবেশ থেকে রক্ষা করে একটি স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করা এই প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান বাধা। কোয়ান্টাম কম্পিউটার অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রায় শূন্য কেলভিনের কাছাকাছি) পরিচালিত হয় এবং সুপার কন্ডাক্টিং সার্কিট বা আয়ন ট্র্যাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
রিপোর্টারের নাম 
























