ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দখলে মরিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা

খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (NWU) দখলে নিতে একটি গোষ্ঠী নানা ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই তৎপরতার ফলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পদ দখলের পর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি, তিন ট্রাস্টির বিরুদ্ধে বিএনপি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই দখলদার ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পবিত্র কুমার সরকার নামে একজন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে, পবিত্র কুমার সরকারকে ওই ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

জানা যায়, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার সময় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। পরবর্তীতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর খালেক আত্মগোপনে চলে যান। সে সময় বিএনপি সমর্থিত সিরাজুল হক চৌধুরী ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন এবং তিনি মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান নামে দুজনকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

সূত্রমতে, গত ২০২৫ সালের ২১ মে সিরাজুল হক চৌধুরীকে সরিয়ে মিজানুর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এরপর মিজানুর রহমান, সিরাজুল হক চৌধুরী, পবিত্র কুমার সরকারসহ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। নিজেদের দখল বজায় রাখতে, মিজানুর রহমান ২০২৪ সালের ২৬ জুন বিএনপির সমাবেশে হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ট্রাস্টিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করেন। এর পাশাপাশি, খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে চেয়ারম্যানসহ চার ট্রাস্টির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলের বিরুদ্ধে তারা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ইউজিসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর ইউজিসি একটি চিঠি দিয়ে জানায় যে, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন। পরবর্তীতে, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার। গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো. রাশিদুল আলম মামলার শুনানিতে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দখলে মরিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (NWU) দখলে নিতে একটি গোষ্ঠী নানা ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই তৎপরতার ফলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পদ দখলের পর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি, তিন ট্রাস্টির বিরুদ্ধে বিএনপি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই দখলদার ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পবিত্র কুমার সরকার নামে একজন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে, পবিত্র কুমার সরকারকে ওই ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

জানা যায়, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার সময় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। পরবর্তীতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর খালেক আত্মগোপনে চলে যান। সে সময় বিএনপি সমর্থিত সিরাজুল হক চৌধুরী ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন এবং তিনি মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান নামে দুজনকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

সূত্রমতে, গত ২০২৫ সালের ২১ মে সিরাজুল হক চৌধুরীকে সরিয়ে মিজানুর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এরপর মিজানুর রহমান, সিরাজুল হক চৌধুরী, পবিত্র কুমার সরকারসহ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। নিজেদের দখল বজায় রাখতে, মিজানুর রহমান ২০২৪ সালের ২৬ জুন বিএনপির সমাবেশে হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ট্রাস্টিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করেন। এর পাশাপাশি, খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে চেয়ারম্যানসহ চার ট্রাস্টির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলের বিরুদ্ধে তারা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ইউজিসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর ইউজিসি একটি চিঠি দিয়ে জানায় যে, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন। পরবর্তীতে, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার। গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো. রাশিদুল আলম মামলার শুনানিতে বিষয়টি উত্থাপন করেন।