ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে, টোল দিতে হবে রিয়ালে: বাবাই

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালে টোল দিতে হবে।

বাবাই বলেন, এই কৌশলগত জলপথটি সম্পূর্ণরূপে ইরানের অধীনে এবং এখানে যেকোনো যাতায়াতের জন্য রিয়ালে অর্থ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধের জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি শিগগিরই উন্মুক্ত হবে।’

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তাদের দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং জলপথে থাকা মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সব মিলিয়ে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে, টোল দিতে হবে রিয়ালে: বাবাই

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালে টোল দিতে হবে।

বাবাই বলেন, এই কৌশলগত জলপথটি সম্পূর্ণরূপে ইরানের অধীনে এবং এখানে যেকোনো যাতায়াতের জন্য রিয়ালে অর্থ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধের জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি শিগগিরই উন্মুক্ত হবে।’

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তাদের দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং জলপথে থাকা মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সব মিলিয়ে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।