ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম শাহাবুদ্দিন মহাবিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে একদল শিক্ষকের গড়ে তোলা অনৈতিক কোচিং বাণিজ্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। সারাদেশে কোচিং ও প্রাইভেট বন্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও এই কলেজের শিক্ষকরা প্রকাশ্যে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার সরাসরি প্রভাবে একসময়ের শীর্ষস্থানীয় এই কলেজের পাসের হারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় ৫৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে কোচিংয়ের প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়ার ফলেই এই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন।
সরেজমিনে তদন্তে উঠে এসেছে শিক্ষকদের অভিনব সব প্রতারণার চিত্র। কলেজের অন্তত চারজন শিক্ষক তাদের নিজস্ব বিষয়ের বাইরে গিয়ে কোচিং সেন্টারে অন্য বিষয় পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছেন। ইতিহাসের শিক্ষক আল আমিন শেখ কলেজের পাশেই টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে আইসিটি কোচিং করাচ্ছেন, যা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। একই ভবনে ইংরেজি শিক্ষক মো. সালিম কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিমায়েত হোসেন একটি সায়েন্স একাডেমি খুলে বাংলা বাদে প্রায় সব বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। এমনকি কলেজের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেও সকালে বাংলা পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে। নিজ বিষয়ের বাইরে গিয়ে অন্য বিষয় পড়ানোর বিষয়ে এই শিক্ষকদের কাছে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এই কোচিং সংস্কৃতির কারণে কলেজের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগ পাওয়া একদল শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষার্থীরা ভোরবেলা কোচিংয়ের নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে ক্লাসে না গিয়ে বাজারে আড্ডা দিচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন শিক্ষকদের এই আচরণকে প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম বদনাম এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা হিসেবে স্বীকার করেছেন। দুই মাস আগে কোচিং বন্ধের জন্য দাপ্তরিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও শিক্ষকরা তা আমলে নেননি। বর্তমানে আবারও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানালেও, কেবল চিঠির মাধ্যমে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























