ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ হত্যাকাণ্ড

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের লাশ তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে। মৃত বাপ্পি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজের জন্য জর্দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা বাপ্পি ও তার পরিবার মেনে নিতে পারছিলেন না। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বাপ্পির পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুন মীম তার স্বামী বাপ্পিকে না জানিয়ে ঢাকায় একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় মীম যে হোটেলরুমে ছিলেন, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। পরে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে ভাণ্ডারিয়ার কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন। মৃত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম দাবি করেন, সোমবার দিবাগত রাতে খাবার শেষে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে খাটে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। মীমের ভাষ্যমতে, তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।

তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত এবং একাধিক পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগেও সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সঙ্গে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এদিকে, খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট: জনবান্ধব নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ হত্যাকাণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের লাশ তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে। মৃত বাপ্পি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজের জন্য জর্দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা বাপ্পি ও তার পরিবার মেনে নিতে পারছিলেন না। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বাপ্পির পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুন মীম তার স্বামী বাপ্পিকে না জানিয়ে ঢাকায় একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় মীম যে হোটেলরুমে ছিলেন, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। পরে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে ভাণ্ডারিয়ার কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন। মৃত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম দাবি করেন, সোমবার দিবাগত রাতে খাবার শেষে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে খাটে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। মীমের ভাষ্যমতে, তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।

তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত এবং একাধিক পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগেও সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সঙ্গে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এদিকে, খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।