জন্মের পর ভাগ্য তাকে ছুড়ে ফেলেছিল কলকাতার এক ময়লার ভাগাড়ে। সেখান থেকে শুরু হয়েছিল এক নবজাতকের অনিশ্চিত জীবনযাত্রা। কিন্তু ভাগ্যের সেই নির্মম অধ্যায় বদলে দেন বলিউড তারকা মিঠুন চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী যোগিতা বালি। আজ সেই শিশুই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন, আর এবার জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছেন বিয়ের মাধ্যমে।

মিঠুন চক্রবর্তীর দত্তক কন্যা দিশানি চক্রবর্তী সম্প্রতি প্রেমিক মাইলস ম্যান্টজারিসের সঙ্গে বাগ্দানের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগ্দানের কিছু ঘরোয়া ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে সহজ, সুন্দর ও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত।”

বাগ্দানের খবর প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে দিশানির অবিশ্বাস্য জীবনকাহিনি।
জানা যায়, জন্মের পর কলকাতার একটি ময়লার স্তূপের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল দিশানিকে। পরে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি পৌঁছে যায় মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগিতা বালির কাছে। তখন নিজেদের তিন সন্তান থাকা সত্ত্বেও শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দিশানিকে ঘরে তোলেন মিঠুন-যোগিতা। এরপর নিজের সন্তানদের মতোই ভালোবাসা ও যত্নে বড় করে তোলেন তাকে। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছেও তিনি কখনো আলাদা ছিলেন না।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন, দিশানি তার জীবনের অন্যতম আশীর্বাদ। দত্তক কন্যা নয়, বরং নিজের মেয়ে হিসেবেই সবসময় তাকে দেখেছেন তিনি।

তবে বাবার জনপ্রিয়তার পথ অনুসরণ করে সরাসরি বলিউডে ক্যারিয়ার গড়েননি দিশানি। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। লস অ্যাঞ্জেলেসের নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি এবং লি স্ট্রাসবার্গ থিয়েটার অ্যান্ড ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখা ও প্রযোজনার কাজেও যুক্ত হয়েছেন। ‘গিফট’, ‘হলি স্মোক’, ‘আন্ডারপাস’ এবং ‘দ্য গেস্ট’-এর মতো কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তার কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়।

এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন সুখবর দিলেন দিশানি। তার বাগ্দত্তা মাইলস ম্যান্টজারিস চলচ্চিত্র জগতেরই একজন পেশাদার। তিনি স্টেডিক্যাম অপারেটর, সিনেমাটোগ্রাফার ও কালারিস্ট হিসেবে কাজ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একান্ত ব্যক্তিগত আয়োজনে হাঁটু গেড়ে বসে দিশানিকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন মাইলস। অন্য ছবিতে আংটি প্রদর্শন এবং দুজনের আবেগঘন মুহূর্তও ধরা পড়েছে।

জানা গেছে, আগামী ৬ ডিসেম্বর ২০২৬ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন এই যুগল।
একসময় যে শিশুকে জীবনের শুরুতেই ফেলে যাওয়া হয়েছিল ময়লার স্তূপে, আজ সেই দিশানি চক্রবর্তী নিজের যোগ্যতায় গড়েছেন স্বতন্ত্র পরিচয়, পেয়েছেন ভালোবাসার মানুষও। তার গল্প যেন প্রমাণ করে—ভাগ্যের লেখা সব গল্পের শেষটা এক রকম হয় না।
রিপোর্টারের নাম 

























