নগর তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন।
‘এক্সপোজিং হিডেন হিট: ম্যাপিং হিট-ড্রিভেন হেলথ ডিসপ্যারিটিস অ্যান্ড অ্যাডভান্সিং পলিসি ইমপ্লিকেশন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন ঢাকা, বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পটি ওয়েলকাম ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), যুক্তরাষ্ট্রের টুলেইন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টার অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের ফলে তাপপ্রবাহ একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ এবং কার্যকর অভিযোজন কৌশল প্রণয়নে আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার গুরুত্ব অপরিহার্য। এই প্রকল্পটি ঢাকার ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর। আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রবিউল আউয়াল স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, গবেষণা কাঠামো এবং প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়।
প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়ন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ। বিভাগটি নগর তাপপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য এবং এর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়াগত ও জলবায়ুবিষয়ক বিশ্লেষণ পরিচালনা করবে। উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ, তাপমাত্রার মানচিত্রায়ন এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থানিক ও কালিক বৈচিত্র্য নির্ণয় করা হবে। এসব তথ্য নগর পরিকল্পনায় বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























