চট্টগ্রাম বন্দরের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলাকালীন তাকে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বন্দরের সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে দশম গ্রেডের ‘ইন্সপেক্টর ক্রাফটস’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই দুর্নীতির অভিযোগের কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার পদোন্নতি স্থগিত রাখা হলেও এবার বোর্ডের সিদ্ধান্তে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ একই ধরনের অভিযোগে বন্দরের সিবিএ-র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নায়েবুল ইসলাম ফটিককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেলোয়ার হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ‘এমটি কান্ডারি-১০’ জাহাজের ইঞ্জিন কেনা ও গিয়ার বক্স পরিবর্তনের নামে প্রায় ৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এই অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান শুরু করে। কয়েক দফায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও বর্তমানে উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছেন।
এই রহস্যজনক পদোন্নতির বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, পদোন্নতি বোর্ডের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই হয়েছে এবং বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছে। তবে আগেরবার স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও কেন এখন পদোন্নতি দেওয়া হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি। দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে এমন পদোন্নতি বন্দরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























