রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করেছে। গত মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই প্রাণ হারিয়েছে ৪টি শিশু। হাসপাতালের তথ্যমতে, বর্তমানে ১৩২ জন শিশু চিকিৎসাধীন থাকলেও শয্যা সংকটে অনেককে সাধারণ ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সংকটে। গত মার্চ মাসে আইসিইউ শয্যা না পেয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা অবস্থায় ৯১ জন শিশুসহ মোট ২২৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সিরিয়াল পাওয়ার আগেই নিভে যাচ্ছে শিশুদের জীবনপ্রদীপ, এমনকি মৃত্যুর পর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হাসপাতাল থেকে শয্যা খালি হওয়ার ফোন আসার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও ঘটছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম টিকা দেওয়া হলেও বর্তমানে আক্রান্তদের ৬৫ শতাংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১৮টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ১২টি হাম আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত—যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০০ শয্যার নতুন আইসিইউ স্থাপনের প্রস্তাব গত ৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, হাসপাতালে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর ভরসাস্থল এই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১,২০০ হলেও প্রতিদিন গড়ে ৩,৫০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বর্তমানে কুষ্টিয়া, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৭৯ জন শিশু হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ পদক্ষেপ ও আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি না করলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব হবে না। সংকটের এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের দাবি, সিন্ডিকেট নির্মূল করে প্রতিটি শিশুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক।
রিপোর্টারের নাম 

























