ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নবজাতকদের জন্য যুগান্তকারী ম্যালেরিয়া ওষুধ অনুমোদন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি

ম্যালেরিয়া বিশ্বজুড়ে একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই রোগের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে। এতদিন পর্যন্ত নবজাতক ও অতি অল্পবয়সি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কোনো ম্যালেরিয়া ওষুধের অভাব ছিল, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হতো। অবশেষে এই ঘাটতি পূরণ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সম্প্রতি নবজাতক ও ছোট শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রথম ম্যালেরিয়া ওষুধ ‘Coartem Baby’ অনুমোদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘major public health milestone’ বা জনস্বাস্থ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

পূর্বে নবজাতকদের ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় বড়দের জন্য তৈরি ওষুধ ভেঙে বা আনুমানিক ডোজে ব্যবহার করতে হতো। এর ফলে ডোজের ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং চিকিৎসা ব্যর্থতার ঝুঁকি ছিল। নতুন এই ওষুধটি বিশেষভাবে দু-পাঁচ কেজি ওজনের নবজাতক ও অল্পবয়সি শিশুদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এটি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, বৈজ্ঞানিক এবং সহজতর করবে। ওষুধটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে সহজে গলিয়ে বা তরল আকারে শিশুকে খাওয়ানো যায়, যা নবজাতক চিকিৎসায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

Coartem Baby একটি সমন্বিত অ্যান্টিম্যালেরিয়াল থেরাপি (Artemisinin-based Combination Therapy বা ACT) যা ম্যালেরিয়া পরজীবী ধ্বংস এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। এতে Artemether দ্রুত পরজীবী ধ্বংস করে এবং Lumefantrine অবশিষ্ট পরজীবী নির্মূল করে পুনরায় সংক্রমণ কমায়। এই সম্মিলিত চিকিৎসা বিশেষ করে Plasmodium falciparum ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর, যা ম্যালেরিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুবরণকারী শিশুদের একটি বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই নতুন ওষুধ নবজাতকের জন্য নির্ভুল ডোজ নিশ্চিত করবে, চিকিৎসা বিলম্ব কমাবে, ভুল ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি হ্রাস করবে এবং সর্বোপরি শিশুমৃত্যু কমাতে সহায়ক হবে। ফলে এটি বৈশ্বিক শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ আগের তুলনায় কমলেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো রোগটি বিদ্যমান। নবজাতক ও গর্ভবতী নারীরা এই রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ভবিষ্যতে তাদের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

নবজাতকদের জন্য যুগান্তকারী ম্যালেরিয়া ওষুধ অনুমোদন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ম্যালেরিয়া বিশ্বজুড়ে একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই রোগের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে। এতদিন পর্যন্ত নবজাতক ও অতি অল্পবয়সি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কোনো ম্যালেরিয়া ওষুধের অভাব ছিল, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হতো। অবশেষে এই ঘাটতি পূরণ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সম্প্রতি নবজাতক ও ছোট শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রথম ম্যালেরিয়া ওষুধ ‘Coartem Baby’ অনুমোদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘major public health milestone’ বা জনস্বাস্থ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

পূর্বে নবজাতকদের ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় বড়দের জন্য তৈরি ওষুধ ভেঙে বা আনুমানিক ডোজে ব্যবহার করতে হতো। এর ফলে ডোজের ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং চিকিৎসা ব্যর্থতার ঝুঁকি ছিল। নতুন এই ওষুধটি বিশেষভাবে দু-পাঁচ কেজি ওজনের নবজাতক ও অল্পবয়সি শিশুদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এটি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, বৈজ্ঞানিক এবং সহজতর করবে। ওষুধটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে সহজে গলিয়ে বা তরল আকারে শিশুকে খাওয়ানো যায়, যা নবজাতক চিকিৎসায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

Coartem Baby একটি সমন্বিত অ্যান্টিম্যালেরিয়াল থেরাপি (Artemisinin-based Combination Therapy বা ACT) যা ম্যালেরিয়া পরজীবী ধ্বংস এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। এতে Artemether দ্রুত পরজীবী ধ্বংস করে এবং Lumefantrine অবশিষ্ট পরজীবী নির্মূল করে পুনরায় সংক্রমণ কমায়। এই সম্মিলিত চিকিৎসা বিশেষ করে Plasmodium falciparum ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর, যা ম্যালেরিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুবরণকারী শিশুদের একটি বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই নতুন ওষুধ নবজাতকের জন্য নির্ভুল ডোজ নিশ্চিত করবে, চিকিৎসা বিলম্ব কমাবে, ভুল ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি হ্রাস করবে এবং সর্বোপরি শিশুমৃত্যু কমাতে সহায়ক হবে। ফলে এটি বৈশ্বিক শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ আগের তুলনায় কমলেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো রোগটি বিদ্যমান। নবজাতক ও গর্ভবতী নারীরা এই রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ভবিষ্যতে তাদের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।