জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর তার পরিবার ও সহপাঠীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম এই প্রতিক্রিয়া জানান।
মকবুল হোসেন বলেন, যে দুইজনকে ফাঁসি এবং তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, আরও বেশি সংখ্যক লোকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। তিনি বিশেষ করে ছাত্রলীগের নেতা পোমেল বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, পোমেল বড়ুয়া তার ছেলেকে মারপিট করেছে, লাঠিচার্জ করেছে, গলা টিপে ধরেছিল এবং কানে-কপালে থাপ্পড় মেরেছিল। পোমেল বড়ুয়া ছাত্রলীগের নেতা এবং তার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমন্বয়ক ছিলেন। তাদের আরো কঠিন বিচার হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আরও বেশি আসামিকে শাস্তি দিলে তারা খুশি হতেন। তিনি জানান, এই মামলায় যারা পলাতক রয়েছে, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের প্রথম শহীদের রায় তারা পেয়েছেন, কিন্তু এতে তারা সন্তুষ্ট নন। তার মতে, পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছেন এবং এটি একটি পুলিশি হত্যাকাণ্ড ছিল। কিন্তু অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে এই মামলায় বাঁচানো হয়েছে, যেমন এসি ইমরানকে বাঁচানো হয়েছে।
আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের ভাইয়ের হত্যার রায় প্রকাশিত হয়েছে। তবে, গুরুদণ্ডে দণ্ডিতদের লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারা আদালতকে এই বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করার দাবি জানাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আদালত এই বিষয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করবে। এছাড়া, যাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা যেন সরকার দ্রুত কার্যকর করার জন্য ভূমিকা রাখে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন হলেন – এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
রিপোর্টারের নাম 





















