দেশের স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান ‘নজিরবিহীন’ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা মোকাবিলা করে ভেঙে পড়া সিস্টেমকে সংস্কার করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতের বাজেট পাঁচগুণ বাড়ানোর একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে সিক্স সিজনস হোটেলে আয়োজিত ‘কমপ্রিহেনসিভ আই কেয়ার সার্ভিসেস’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে সাইটসেভারস এবং গিলডান অ্যাকটিভওয়্যার।
প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে বিগত বছরগুলোতে হওয়া দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ভেঙে পড়া সিস্টেমকে পুনর্গঠন করে এগিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণে বরাদ্দ বাজেট অনেক সময় পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব হয় না, যা দ্রুত উন্নয়ন জরুরি।
অন্ধত্ব প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ড. মুহিত অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, তিনি সারাজীবন ব্লাইন্ডনেস প্রিভেনশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই আয়োজনে আসা তার জন্য পুরনো ক্ষেত্রেই নতুনভাবে ফিরে আসার মতো।
সাভার উপজেলার পাথালিয়া ও ধামসোনা ইউনিয়নের পোশাক শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় চোখের স্ক্রিনিং, ছানি অপারেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্কুলভিত্তিক চক্ষুস্বাস্থ্য কর্মসূচি ও সচেতনতা কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধুমাত্র আই কেয়ার নয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং উপযুক্ত থেরাপির মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দৃষ্টি সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। আর, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি সাইটসেভারস-এর ২৫ বছরের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তাদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজি অ্যান্ড হসপিটাল-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম এম কাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব।
রিপোর্টারের নাম 




















