ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই: শিক্ষামন্ত্রী, ডিজিটাল নকল রোধে আইন আসছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ভীতি বা দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ফেসবুকে তারা নিজেরা নিজেরাই ভয় পাচ্ছে। ভীত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সুন্দর পরীক্ষা হবে। আমরা মনিটরিং করবো।’

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফের’ যৌথ আয়োজনে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কলেজ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে টেকনিক্যাল কোর্স যুক্ত করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যে নকলকে মিন বা বুঝাই, সেই নকল আর হয় না। এখন কিছুটা হয় ডিজিটাল নকল। এই ডিজিটাল নকল বন্ধে আইন করা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিয়মিত ঘটনা ছিল, তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। তিনি জানান, আগামী এইচএসসি পরীক্ষা সব বোর্ডে একক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে।

সিসি ক্যামেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আমার শিক্ষকরা ঠিকমত ক্লাসে পড়াচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবো। এটা নিয়ে এত ভয়ের কি আছে? এটা নিয়ে ট্রল করছে।’ তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন কি আগের মত হেলিকপ্টার নিয়ে ছোটার দিন আছে? এখন কোথায় কি হচ্ছে রুমে বসে দেখবো।’

দেশের বৃহত্তম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২২৮৪টি অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে, যেখানে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। মোট উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। এদের বেশিরভাগই মধ্য ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পুরনো ও গতানুগতিক সিলেবাসের কারণে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা লাভের পরও বেকার থাকে, যার প্রধান কারণ কারিগরি বিষয় ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাব। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন, উদ্বেগ পরিবেশবাদীদের

পরীক্ষা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই: শিক্ষামন্ত্রী, ডিজিটাল নকল রোধে আইন আসছে

আপডেট সময় : ০৫:১৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ভীতি বা দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ফেসবুকে তারা নিজেরা নিজেরাই ভয় পাচ্ছে। ভীত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সুন্দর পরীক্ষা হবে। আমরা মনিটরিং করবো।’

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফের’ যৌথ আয়োজনে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কলেজ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে টেকনিক্যাল কোর্স যুক্ত করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যে নকলকে মিন বা বুঝাই, সেই নকল আর হয় না। এখন কিছুটা হয় ডিজিটাল নকল। এই ডিজিটাল নকল বন্ধে আইন করা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিয়মিত ঘটনা ছিল, তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। তিনি জানান, আগামী এইচএসসি পরীক্ষা সব বোর্ডে একক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে।

সিসি ক্যামেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আমার শিক্ষকরা ঠিকমত ক্লাসে পড়াচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবো। এটা নিয়ে এত ভয়ের কি আছে? এটা নিয়ে ট্রল করছে।’ তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন কি আগের মত হেলিকপ্টার নিয়ে ছোটার দিন আছে? এখন কোথায় কি হচ্ছে রুমে বসে দেখবো।’

দেশের বৃহত্তম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২২৮৪টি অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে, যেখানে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। মোট উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। এদের বেশিরভাগই মধ্য ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পুরনো ও গতানুগতিক সিলেবাসের কারণে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা লাভের পরও বেকার থাকে, যার প্রধান কারণ কারিগরি বিষয় ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাব। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।