ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

এক চোখের আলো নিভে গেলেও, মনের আলোয় বইয়ের ভুবন গড়েছেন মাহবুব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমপ্লেক্সের শান্ত পরিবেশে বইয়ের পসরা নিয়ে বসেন মো. মাহবুব আলম। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্র ২০০৮ সালের এক দুর্ঘটনায় একটি চোখ হারান। কিন্তু জীবনের এই প্রতিকূলতা তাঁর মনের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি, বরং তা তাঁকে বইয়ের এক নতুন জগতে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চত্বর তাঁর বই বেচা ও বই আড্ডায় মুখরিত থাকে।

মাহবুব আলম রাজশাহীর মেহেরচন্ডী বুধপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০২২ সালের ২২ মার্চ থেকে তিনি বই নিয়ে কাজ শুরু করেন। ক্লাসের ফাঁকে অথবা ছুটির দিনগুলোতে ডিন’স কমপ্লেক্সের পেছনে তাঁর অস্থায়ী দোকানে বইপ্রেমীরা ভিড় করেন। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল।

মাহবুব জানান, পুরোনো বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরোনো বই সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন এবং অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়ে উৎসাহের সঙ্গে এই কাজ চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি বই বিক্রিকে উপার্জনের একটি উৎস হিসেবে দেখেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বই সংগ্রহ করে কম দামে বিক্রি করার তাঁর এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ছাত্রদের জন্য সহায়ক, তেমনই এটি তাঁর নিজের চলার মাধ্যমও।

শুধু বই বিক্রিই নয়, মাহবুবের একটি ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে—‘বর্ণশুদ্ধ প্রকাশনা’। এই প্রকাশনা থেকে তাঁর প্রথম দুটি বই, একটি যৌথ কবিতার বই ও একটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি প্রকাশনা নিয়েই কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। এবারের বইমেলায় তাঁর নতুন বই ‘ফিলিস্তিনে শিশু বন্দি ও নির্যাতন’ প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এই স্বপ্নযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। মাহবুব অকপটে বলেন, ‘বইগুলো সংগ্রহ করতে টাকার প্রয়োজন। অনেকেই বিভিন্ন বইয়ের খোঁজ করেন। আমার কাছে যদি পর্যাপ্ত টাকা থাকত, আমি সেই বইগুলো স্টক করে রাখতে পারতাম এবং সবার চাহিদা পূরণ করতে পারতাম।’ তাঁর বন্ধুরা তাঁর এই উদ্যোগকে সমর্থন জুগিয়েছে এবং এক বন্ধু এক বছর তাঁর সঙ্গে এই কাজে সহযোগিতা করেছে। তাঁদের সমর্থন আজও অটুট আছে এবং মাহবুবের কর্মোদ্যোগ তাঁদের মাঝেও এক ধরনের অনুপ্রেরণা জোগায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

এক চোখের আলো নিভে গেলেও, মনের আলোয় বইয়ের ভুবন গড়েছেন মাহবুব

আপডেট সময় : ১০:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমপ্লেক্সের শান্ত পরিবেশে বইয়ের পসরা নিয়ে বসেন মো. মাহবুব আলম। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্র ২০০৮ সালের এক দুর্ঘটনায় একটি চোখ হারান। কিন্তু জীবনের এই প্রতিকূলতা তাঁর মনের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি, বরং তা তাঁকে বইয়ের এক নতুন জগতে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চত্বর তাঁর বই বেচা ও বই আড্ডায় মুখরিত থাকে।

মাহবুব আলম রাজশাহীর মেহেরচন্ডী বুধপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০২২ সালের ২২ মার্চ থেকে তিনি বই নিয়ে কাজ শুরু করেন। ক্লাসের ফাঁকে অথবা ছুটির দিনগুলোতে ডিন’স কমপ্লেক্সের পেছনে তাঁর অস্থায়ী দোকানে বইপ্রেমীরা ভিড় করেন। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল।

মাহবুব জানান, পুরোনো বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরোনো বই সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন এবং অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়ে উৎসাহের সঙ্গে এই কাজ চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি বই বিক্রিকে উপার্জনের একটি উৎস হিসেবে দেখেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বই সংগ্রহ করে কম দামে বিক্রি করার তাঁর এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ছাত্রদের জন্য সহায়ক, তেমনই এটি তাঁর নিজের চলার মাধ্যমও।

শুধু বই বিক্রিই নয়, মাহবুবের একটি ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে—‘বর্ণশুদ্ধ প্রকাশনা’। এই প্রকাশনা থেকে তাঁর প্রথম দুটি বই, একটি যৌথ কবিতার বই ও একটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি প্রকাশনা নিয়েই কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। এবারের বইমেলায় তাঁর নতুন বই ‘ফিলিস্তিনে শিশু বন্দি ও নির্যাতন’ প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এই স্বপ্নযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। মাহবুব অকপটে বলেন, ‘বইগুলো সংগ্রহ করতে টাকার প্রয়োজন। অনেকেই বিভিন্ন বইয়ের খোঁজ করেন। আমার কাছে যদি পর্যাপ্ত টাকা থাকত, আমি সেই বইগুলো স্টক করে রাখতে পারতাম এবং সবার চাহিদা পূরণ করতে পারতাম।’ তাঁর বন্ধুরা তাঁর এই উদ্যোগকে সমর্থন জুগিয়েছে এবং এক বন্ধু এক বছর তাঁর সঙ্গে এই কাজে সহযোগিতা করেছে। তাঁদের সমর্থন আজও অটুট আছে এবং মাহবুবের কর্মোদ্যোগ তাঁদের মাঝেও এক ধরনের অনুপ্রেরণা জোগায়।