ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইউএনও-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও অপসারণের হুমকি

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত সিসিটিভি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য অপসারিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, ইউএনও তাকে প্রকল্প প্রস্তাব ও স্বাক্ষর না করার জন্য হুমকি দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তাকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন।

সোমবার রাতে ওসমানীনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে কবির আহমদ এসব অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঝলক পাল বরখাস্ত হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই সময়ে একটি প্যানেল চেয়ারম্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন এবং তার চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকার আদেশ কার্যকর হয়। পরবর্তীতে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

কবির আহমদ অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমানীনগর উপজেলার ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এই বরাদ্দের অর্থ দিয়ে কোনো কাজ না করে পুরো প্রকল্প গোপন রেখে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের করের ১ শতাংশ তহবিলের আওতায় তাকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিলের নির্দেশ দেন ইউএনও। তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রাজস্ব অনুপাতে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অধিকাংশ চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর দিতে রাজি না হলেও জেলা প্রশাসকের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কবির আহমদ দাবি করেন, তিনি এ প্রকল্পে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইউএনও তার সচিবের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার পর তিনি ইউএনও-র ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, বৈঠক নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা

ইউএনও-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও অপসারণের হুমকি

আপডেট সময় : ০১:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত সিসিটিভি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য অপসারিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, ইউএনও তাকে প্রকল্প প্রস্তাব ও স্বাক্ষর না করার জন্য হুমকি দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তাকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন।

সোমবার রাতে ওসমানীনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে কবির আহমদ এসব অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঝলক পাল বরখাস্ত হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই সময়ে একটি প্যানেল চেয়ারম্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন এবং তার চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকার আদেশ কার্যকর হয়। পরবর্তীতে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

কবির আহমদ অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমানীনগর উপজেলার ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এই বরাদ্দের অর্থ দিয়ে কোনো কাজ না করে পুরো প্রকল্প গোপন রেখে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের করের ১ শতাংশ তহবিলের আওতায় তাকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিলের নির্দেশ দেন ইউএনও। তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রাজস্ব অনুপাতে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অধিকাংশ চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর দিতে রাজি না হলেও জেলা প্রশাসকের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কবির আহমদ দাবি করেন, তিনি এ প্রকল্পে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইউএনও তার সচিবের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার পর তিনি ইউএনও-র ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।