ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে রহস্যময় ৭০ হাত লম্বা কবর: লোককথা ও বিশ্বাসে জীবন্ত এক ঐতিহ্য

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের শিয়ালগাজী কবরস্থান স্থানীয়দের কাছে এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে অবস্থিত দারগাপীরের কবরটি প্রায় ৭০ হাত লম্বা, যা সাধারণ কবরের তুলনায় অস্বাভাবিক বড় বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। এই কবরটি এখনো লাল শালু দিয়ে মোড়ানো থাকে, যা স্থানটির ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও এর সঠিক লিখিত ইতিহাস নেই, তবে মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তিই এটিকে এক লোকজ ঐতিহ্যের অংশে পরিণত করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই দারগাপীরের কবর ঘিরে বহু বছর ধরে নানা অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত আছে। অনেকেই এখানে এসে মানত করেন এবং তাদের আশা পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেন। এর ফলে দিনে দিনে এই স্থানে ভক্তদের আগমন বাড়ছে। স্থানীয় মুনছুর আলী জানান, “সেবাযত্ন করলে অনেক কিছু পাওয়া যায়। আমি নিজেও পেয়েছি। যেমন— পার্শ্ববর্তী পুকুরে মাছ থাকে, পীরের সেবা করলে মাছ পাওয়া যায়, না করলে পুকুরে মাছ পাওয়া যায় না।”

গোগর বাজারের রবিউল ইসলাম বলেন, এই স্থানে প্রায়ই মিলাদ, দোয়া ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ইবাদত করেন এবং রান্নাবান্না করে এখানেই খেয়ে চলে যান। কবরের চারপাশে একধরনের নীরব ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই লোকজ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

শিয়ালগাজী কবরস্থানের দারগাপীর শুধু একটি কবর নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। লিখিত ইতিহাসের বাইরেও এই স্থানটি আজ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। আবাদতাকিয়া মোহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী বলেন, কবরটি বহু পুরোনো এবং মানুষ বিপদে-আপদে সেখানে যায়, জিয়ারত করে। তবে তিনি মনে করেন, আল্লাহর সুফল পাওয়া যায়, কিন্তু মাজার দেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা মাজারটির প্রাচীর নির্মাণ করে দেয়। তখন থেকেই এলাকার লোকজন সেখানে মানত করে টাকাপয়সা দেয়, তবে মনের বাসনা পূর্ণ হয় কিনা, তা তার জানা নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে রহস্যময় ৭০ হাত লম্বা কবর: লোককথা ও বিশ্বাসে জীবন্ত এক ঐতিহ্য

আপডেট সময় : ১২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের শিয়ালগাজী কবরস্থান স্থানীয়দের কাছে এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে অবস্থিত দারগাপীরের কবরটি প্রায় ৭০ হাত লম্বা, যা সাধারণ কবরের তুলনায় অস্বাভাবিক বড় বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। এই কবরটি এখনো লাল শালু দিয়ে মোড়ানো থাকে, যা স্থানটির ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও এর সঠিক লিখিত ইতিহাস নেই, তবে মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তিই এটিকে এক লোকজ ঐতিহ্যের অংশে পরিণত করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই দারগাপীরের কবর ঘিরে বহু বছর ধরে নানা অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত আছে। অনেকেই এখানে এসে মানত করেন এবং তাদের আশা পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেন। এর ফলে দিনে দিনে এই স্থানে ভক্তদের আগমন বাড়ছে। স্থানীয় মুনছুর আলী জানান, “সেবাযত্ন করলে অনেক কিছু পাওয়া যায়। আমি নিজেও পেয়েছি। যেমন— পার্শ্ববর্তী পুকুরে মাছ থাকে, পীরের সেবা করলে মাছ পাওয়া যায়, না করলে পুকুরে মাছ পাওয়া যায় না।”

গোগর বাজারের রবিউল ইসলাম বলেন, এই স্থানে প্রায়ই মিলাদ, দোয়া ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ইবাদত করেন এবং রান্নাবান্না করে এখানেই খেয়ে চলে যান। কবরের চারপাশে একধরনের নীরব ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই লোকজ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

শিয়ালগাজী কবরস্থানের দারগাপীর শুধু একটি কবর নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। লিখিত ইতিহাসের বাইরেও এই স্থানটি আজ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। আবাদতাকিয়া মোহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী বলেন, কবরটি বহু পুরোনো এবং মানুষ বিপদে-আপদে সেখানে যায়, জিয়ারত করে। তবে তিনি মনে করেন, আল্লাহর সুফল পাওয়া যায়, কিন্তু মাজার দেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা মাজারটির প্রাচীর নির্মাণ করে দেয়। তখন থেকেই এলাকার লোকজন সেখানে মানত করে টাকাপয়সা দেয়, তবে মনের বাসনা পূর্ণ হয় কিনা, তা তার জানা নেই।