ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বেরোবিতে ইতিহাস বিভাগের আয়োজনে প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে মধ্য ও প্রাচীন যুগের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে শিক্ষার্থীরা একদিনব্যাপী এই আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতিরূপ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সোমপুর মহাবিহার, শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, গৌড় নগরী, ষাট গম্বুজ মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ এবং কান্তজিউ মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মডেল। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও খাবারের প্রদর্শনী উৎসবটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং এই ধরনের আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্নতত্ত্ব শুধু আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থানের ইতিহাস সম্পর্কে সকলে জানুক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব সংরক্ষণে আরও সচেতন হোক।’

প্রদর্শনী দেখতে আসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে এসে মনে হয়েছে যেন ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ করেছি। বইয়ে পড়া স্থানগুলো বাস্তবের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী জানান, শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তবধর্মী ইতিহাসচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। দিনব্যাপী এই প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ইতিহাসচর্চায় নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কতটুকু স্বাধীনতা: ফেঞ্চুগঞ্জের ঘটনায় ফের উঠছে প্রশ্ন

বেরোবিতে ইতিহাস বিভাগের আয়োজনে প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব

আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে মধ্য ও প্রাচীন যুগের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে শিক্ষার্থীরা একদিনব্যাপী এই আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতিরূপ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সোমপুর মহাবিহার, শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, গৌড় নগরী, ষাট গম্বুজ মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ এবং কান্তজিউ মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মডেল। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও খাবারের প্রদর্শনী উৎসবটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং এই ধরনের আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্নতত্ত্ব শুধু আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থানের ইতিহাস সম্পর্কে সকলে জানুক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব সংরক্ষণে আরও সচেতন হোক।’

প্রদর্শনী দেখতে আসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে এসে মনে হয়েছে যেন ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ করেছি। বইয়ে পড়া স্থানগুলো বাস্তবের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী জানান, শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তবধর্মী ইতিহাসচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। দিনব্যাপী এই প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ইতিহাসচর্চায় নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।