ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

অবিরাম বৃষ্টিতে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজি, মাছ, মুরগি, ডিমসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখন ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়াই দুষ্কর। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে, করলা ১২০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০-১০০ টাকা, শসা ও গাজর ১০০-১৪০ টাকা এবং টমেটো ১২০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে পেঁপে ৪০ টাকা এবং পটল ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; কয়েক দিন আগে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫-৬০ টাকায় ঠেকেছে।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কাঁচামরিচের দামে। এক মাস আগে যে কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২৬০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মতো পাইকারি বাজারে তুলনামূলক কম দাম পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি।

কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বেশি থাকার কারণে আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বৃষ্টি না থামলে দাম আরও বাড়তে পারে।

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের বিক্রেতা এরফান আলী জানান, কৃষকের ক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ায় সবজির সরবরাহ কমেছে, যা পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু সবজি নয়, ডিম, মুরগি ও মাছের দামও বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-১৮৫ টাকা। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৩০-৩৫০ টাকা কেজি হয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাত দিন আগেও ৩৫০-৩৭০ টাকায় মেলা রুই মাছ এখন ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, চাষের চিংড়ি ৯০০-১২০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ কিনতে এখন ২৪০০-২৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০০-৩০০ টাকা বেশি।

নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা দিনমজুর মাসুদ রানা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাজারে ঘুরেও আমি কী কিনব, তা বুঝে উঠতে পারছি না, কারণ দাম এত বেশি যে অল্প টাকায় কিছুই হচ্ছে না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে খাল দখল ও জলাবদ্ধতায় বিপাকে কৃষক, তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা জমি

অবিরাম বৃষ্টিতে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

আপডেট সময় : ০৪:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজি, মাছ, মুরগি, ডিমসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখন ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়াই দুষ্কর। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে, করলা ১২০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০-১০০ টাকা, শসা ও গাজর ১০০-১৪০ টাকা এবং টমেটো ১২০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে পেঁপে ৪০ টাকা এবং পটল ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; কয়েক দিন আগে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫-৬০ টাকায় ঠেকেছে।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কাঁচামরিচের দামে। এক মাস আগে যে কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২৬০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মতো পাইকারি বাজারে তুলনামূলক কম দাম পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি।

কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বেশি থাকার কারণে আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বৃষ্টি না থামলে দাম আরও বাড়তে পারে।

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের বিক্রেতা এরফান আলী জানান, কৃষকের ক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ায় সবজির সরবরাহ কমেছে, যা পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু সবজি নয়, ডিম, মুরগি ও মাছের দামও বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-১৮৫ টাকা। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৩০-৩৫০ টাকা কেজি হয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাত দিন আগেও ৩৫০-৩৭০ টাকায় মেলা রুই মাছ এখন ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, চাষের চিংড়ি ৯০০-১২০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ কিনতে এখন ২৪০০-২৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০০-৩০০ টাকা বেশি।

নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা দিনমজুর মাসুদ রানা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাজারে ঘুরেও আমি কী কিনব, তা বুঝে উঠতে পারছি না, কারণ দাম এত বেশি যে অল্প টাকায় কিছুই হচ্ছে না।’