ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

শিক্ষকদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কতটুকু স্বাধীনতা: ফেঞ্চুগঞ্জের ঘটনায় ফের উঠছে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে, দূর অজানায় চায় হারাতে…!’ জনপ্রিয় এই গানের সুরে একটি সাধারণ রিলস ভিডিও তৈরি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। গত ২৩ জুলাই তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ার পর যেমন একাংশের তীব্র কটূক্তি, ট্রল ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, তেমনই আবার তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন দেশের বিপুল সংখ্যক নারী শিক্ষক।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর সারাদেশের অসংখ্য শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি জানিয়ে একই গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে শুরু করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত মুহূর্তের বিনোদন বা সাংস্কৃতিক প্রকাশ কেন বারবার সমাজে এভাবে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়?

আমাদের সমাজে শিক্ষককে সাধারণ পেশাজীবীর ঊর্ধ্বে তুলে এনে একপ্রকার নৈতিকতার প্রতীক বা কঠোর কাঠামোর মধ্যে রেখে বিচার করার প্রবণতা রয়েছে। শিক্ষক মানেই সর্বক্ষণ গুরুগম্ভীর হবেন—এমন একটি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য যা অত্যন্ত স্বাভাবিক, একজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে সেটাই বিতর্ক সৃষ্টি করে। তবে বিউটি রানীর ঘটনাটি কোনো একক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৪ সালে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) এক শিক্ষিকাকে টিকটক করার কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। একইভাবে পাশের দেশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাপুরে ক্লাসরুমে গান গাওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসেও ২০২৪ সালে টিকটক ভিডিও পোস্ট করার জন্য এক শিক্ষিকাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া ও ট্রলের ব্যাখ্যা মিলেছে মনোবিজ্ঞানের গবেষণায়। ২০০৪ সালে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী জন সুলার তাঁর ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন ইফেক্ট’ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখান যে, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মানুষ নিজের নাম ও সামাজিক জবাবদিহিতার চাপ কম অনুভব করার ফলে বাস্তব জীবনের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও খোলামেলা মন্তব্য করে ফেলে। এছাড়া অন্যের সমালোচনা দেখে না বুঝে অন্ধভাবে তা অনুসরণ করার এই আচরণকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্যান্ডwagon ইফেক্ট’ এবং অন্যের ব্যক্তিগত আচরণের ওপর নিজের নৈতিকতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে ‘মোরাল পুলিশিং’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

বিতর্কের মুখে প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল স্পষ্ট করেছেন, ভিডিওটি কোনোভাবেই পাঠদানকালে বা স্কুল চলাকালীন ধারণ করা হয়নি, এটি ছুটির সময়ে তোলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ নেতিবাচক ও ভুল ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাইরাল করে তাঁর সম্মানহানি করেছে।

আইনি ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এ দায়িত্ব, কর্তব্য ও মর্যাদার কথা বলা হলেও সেখানে কোনো সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন না—এমন কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা নেই। পরবর্তীতে প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’-এ উল্লেখ রয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীরা এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করতে পারবেন না যা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, নিরপেক্ষতা বা মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ করে কিংবা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়। তবে এ নির্দেশিকাতেও গান গাওয়া বা বিনোদনমূলক ব্যক্তিগত রিলস তৈরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এমন কোনো লিখিত নির্দেশনা নেই।

যদি তদন্তের মাধ্যমে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ প্রমাণিত হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে তিরস্কার, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বাধ্যবাধকতামূলক অবসর কিংবা চাকরি থেকে অপসারণের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদরা মনে করেন, ঘটনাটিকে অতটা কড়া নজরদারিতে দেখা যুক্তিসঙ্গত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, একজন শিক্ষকের সংবেদনশীল ও সংস্কৃতিমনা হওয়াটা তাঁর বড় গুণ। শিশুদের আনন্দদায়ক শিখন বা ‘জয়ফুল লার্নিং’-এর জন্য নাচ, গান বা বিনোদনের মধ্য দিয়ে শেখানোই আধুনিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুন নাহার লিপিও মন্তব্য করেছেন, যদি কোনো কর্মকাণ্ড অশালীন না হয় এবং পেশাগত দায়িত্বে বিঘ্ন না ঘটায়, তবে শিক্ষকের বিনোদনমূলক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত।

এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনের পরেই স্পষ্ট হবে বিউটি রানী পালের এই ভিডিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে নাকি সৃজনশীলতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনাটি আরও একবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার, শিক্ষকতা পেশার সামাজিক ছাঁচ এবং ব্যক্তির স্বাধীনতার সীমা নিয়ে এক নতুন আইনি ও সামাজিক বিতর্কের ক্ষেত্র তৈরি করল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৬ বছর ধরে পত্রিকা বিলি: কাপ্তাইয়ের মোহাম্মদ হোসেনের জীবনসংগ্রামের গল্প

শিক্ষকদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কতটুকু স্বাধীনতা: ফেঞ্চুগঞ্জের ঘটনায় ফের উঠছে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১১:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে, দূর অজানায় চায় হারাতে…!’ জনপ্রিয় এই গানের সুরে একটি সাধারণ রিলস ভিডিও তৈরি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। গত ২৩ জুলাই তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ার পর যেমন একাংশের তীব্র কটূক্তি, ট্রল ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, তেমনই আবার তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন দেশের বিপুল সংখ্যক নারী শিক্ষক।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর সারাদেশের অসংখ্য শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি জানিয়ে একই গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে শুরু করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত মুহূর্তের বিনোদন বা সাংস্কৃতিক প্রকাশ কেন বারবার সমাজে এভাবে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়?

আমাদের সমাজে শিক্ষককে সাধারণ পেশাজীবীর ঊর্ধ্বে তুলে এনে একপ্রকার নৈতিকতার প্রতীক বা কঠোর কাঠামোর মধ্যে রেখে বিচার করার প্রবণতা রয়েছে। শিক্ষক মানেই সর্বক্ষণ গুরুগম্ভীর হবেন—এমন একটি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য যা অত্যন্ত স্বাভাবিক, একজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে সেটাই বিতর্ক সৃষ্টি করে। তবে বিউটি রানীর ঘটনাটি কোনো একক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৪ সালে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) এক শিক্ষিকাকে টিকটক করার কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। একইভাবে পাশের দেশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাপুরে ক্লাসরুমে গান গাওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসেও ২০২৪ সালে টিকটক ভিডিও পোস্ট করার জন্য এক শিক্ষিকাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া ও ট্রলের ব্যাখ্যা মিলেছে মনোবিজ্ঞানের গবেষণায়। ২০০৪ সালে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী জন সুলার তাঁর ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন ইফেক্ট’ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখান যে, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মানুষ নিজের নাম ও সামাজিক জবাবদিহিতার চাপ কম অনুভব করার ফলে বাস্তব জীবনের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও খোলামেলা মন্তব্য করে ফেলে। এছাড়া অন্যের সমালোচনা দেখে না বুঝে অন্ধভাবে তা অনুসরণ করার এই আচরণকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্যান্ডwagon ইফেক্ট’ এবং অন্যের ব্যক্তিগত আচরণের ওপর নিজের নৈতিকতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে ‘মোরাল পুলিশিং’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

বিতর্কের মুখে প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল স্পষ্ট করেছেন, ভিডিওটি কোনোভাবেই পাঠদানকালে বা স্কুল চলাকালীন ধারণ করা হয়নি, এটি ছুটির সময়ে তোলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ নেতিবাচক ও ভুল ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাইরাল করে তাঁর সম্মানহানি করেছে।

আইনি ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এ দায়িত্ব, কর্তব্য ও মর্যাদার কথা বলা হলেও সেখানে কোনো সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন না—এমন কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা নেই। পরবর্তীতে প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’-এ উল্লেখ রয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীরা এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করতে পারবেন না যা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, নিরপেক্ষতা বা মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ করে কিংবা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়। তবে এ নির্দেশিকাতেও গান গাওয়া বা বিনোদনমূলক ব্যক্তিগত রিলস তৈরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এমন কোনো লিখিত নির্দেশনা নেই।

যদি তদন্তের মাধ্যমে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ প্রমাণিত হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে তিরস্কার, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বাধ্যবাধকতামূলক অবসর কিংবা চাকরি থেকে অপসারণের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদরা মনে করেন, ঘটনাটিকে অতটা কড়া নজরদারিতে দেখা যুক্তিসঙ্গত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, একজন শিক্ষকের সংবেদনশীল ও সংস্কৃতিমনা হওয়াটা তাঁর বড় গুণ। শিশুদের আনন্দদায়ক শিখন বা ‘জয়ফুল লার্নিং’-এর জন্য নাচ, গান বা বিনোদনের মধ্য দিয়ে শেখানোই আধুনিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুন নাহার লিপিও মন্তব্য করেছেন, যদি কোনো কর্মকাণ্ড অশালীন না হয় এবং পেশাগত দায়িত্বে বিঘ্ন না ঘটায়, তবে শিক্ষকের বিনোদনমূলক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত।

এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনের পরেই স্পষ্ট হবে বিউটি রানী পালের এই ভিডিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে নাকি সৃজনশীলতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনাটি আরও একবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার, শিক্ষকতা পেশার সামাজিক ছাঁচ এবং ব্যক্তির স্বাধীনতার সীমা নিয়ে এক নতুন আইনি ও সামাজিক বিতর্কের ক্ষেত্র তৈরি করল।