বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির লাথিতে ইয়ারুন নেসা (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বিকেলে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের রূপচান মাঝির বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইয়ারুন নেসা এবং তার নাতি মেহেদী হাসানের পরিবারের পৃথক দুটি হাঁস ছিল। একদিন নাতি তার হাঁস খুঁজে না পেয়ে নানির হাঁসটি নিজের বলে দাবি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তর্কের একপর্যায়ে ইয়ারুন নেসা হাতে থাকা লাঠি দিয়ে নাতিকে আঘাত করলে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী হাসান তার নানিকে লাথি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
নিহত ইয়ারুন নেসা পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের রূপচান মাঝির স্ত্রী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকনুজ্জামান বলেন, ‘দুটি পরিবারের হাঁস নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।’ নিহতের বড় ছেলে সোহরাব মাঝি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার মায়ের এমন পরিণতি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















