ভারতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে পুনরায় বৃহৎ পরিসরে রাজপথে নামার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে পূর্বে নির্ধারিত আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সংক্রান্ত লিখিত সমঝোতা ভঙ্গের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন দলটির অন্যতম শীর্ষ মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে এক ক্ষুব্ধ বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে।
বিবৃতিতে সিজিপি মুখপাত্র জানান, ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ইতোমধ্যে শত শত নিরীহ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দী করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিসহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক হয়রানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি দিল্লিতে যেসব স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলনকারীদের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করছিলেন, তাদেরকেও ঢালাওভাবে আটক করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
পরিস্থিতি উত্তরণে আশুতোষ রাঙ্কা সিজিপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু কড়া দাবি উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় করা সবকটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট বা এফআইআর অবিলম্বে বাতিল ও প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া গ্রেপ্তার করা শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করতে হবে। তিনি আরও জোর দাবি জানান যে, ভবিষ্যতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় কোনো তদন্তকারী সংস্থা কিংবা ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তার মিত্র জোট শাসিত কোনো রাজ্য পুলিশ যেন নতুন করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা বা হয়রানি না করে।
সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে এই সিজিপি নেতা জানান, যদি তাদের দাবি মেনে নিয়ে অভিযান বন্ধ না করা হয়, তবে তারা পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এ ছাড়া আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে সরকারের সঙ্গে যে লিখিত সমঝোতা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচিসহ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রকাশ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 
























