ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ভারতে তেলাপোকা আন্দোলন ও বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান: শিক্ষা?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের নരേ্দ্র মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে ‘তেলাপোকা আন্দোলন’। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বিচারপতি তরুণদের ‘ককরোচ’ বা আরশোলা বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দীপক ও অন্য আন্দোলনকারীরা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্রতীকী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। এটি ছিল ভারতে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি ব্যঙ্গাত্মক এবং ডিজিটালভিত্তিক প্রতিবাদ আন্দোলন।

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম দূর করার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে দিল্লিতে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী জমায়েত হয়েছিল। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বরং আন্দোলন ভারতের নানা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে সরকার বাধ্য হয়।

এই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশে ২০১৮ সালে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অনেক মিল রয়েছে। ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসের চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় ২৯ জুলাই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলন দমনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরে সরকার চাপের মুখে সড়ক পরিবহন আইন পাস করেছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের নিপীড়ন গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। এই শিক্ষার্থীরাই ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত আন্দোলনের মুখে পালিয়ে হাসিনা যে দিল্লিতে অবস্থান করছেন, সেখানে একই ধরনের আরেকটি আন্দোলন হলো। এ ধরনের আন্দোলন এখন যেকোনো দেশের সরকারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রথাগত রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের চেয়ে এ ধরনের আন্দোলন মোকাবিলা করা কঠিন। দিল্লির এই আন্দোলন যদি মোদি সরকার হাসিনা-স্টাইলে দমন করতে চাইত, তাহলে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ নিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৬ জুন শুরু হওয়া এক মাসের এই আন্দোলনে একটি গুলিও চালায়নি মোদি সরকার। দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা ঘিরে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিলেও সব ধরনের রক্তপাত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। লাঠিচ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি, ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

ভারতে তেলাপোকা আন্দোলন ও বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান: শিক্ষা?

আপডেট সময় : ১১:০১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ভারতের নരേ্দ্র মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে ‘তেলাপোকা আন্দোলন’। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বিচারপতি তরুণদের ‘ককরোচ’ বা আরশোলা বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দীপক ও অন্য আন্দোলনকারীরা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্রতীকী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। এটি ছিল ভারতে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি ব্যঙ্গাত্মক এবং ডিজিটালভিত্তিক প্রতিবাদ আন্দোলন।

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম দূর করার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে দিল্লিতে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী জমায়েত হয়েছিল। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বরং আন্দোলন ভারতের নানা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে সরকার বাধ্য হয়।

এই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশে ২০১৮ সালে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অনেক মিল রয়েছে। ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসের চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় ২৯ জুলাই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলন দমনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরে সরকার চাপের মুখে সড়ক পরিবহন আইন পাস করেছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের নিপীড়ন গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। এই শিক্ষার্থীরাই ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত আন্দোলনের মুখে পালিয়ে হাসিনা যে দিল্লিতে অবস্থান করছেন, সেখানে একই ধরনের আরেকটি আন্দোলন হলো। এ ধরনের আন্দোলন এখন যেকোনো দেশের সরকারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রথাগত রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের চেয়ে এ ধরনের আন্দোলন মোকাবিলা করা কঠিন। দিল্লির এই আন্দোলন যদি মোদি সরকার হাসিনা-স্টাইলে দমন করতে চাইত, তাহলে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ নিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৬ জুন শুরু হওয়া এক মাসের এই আন্দোলনে একটি গুলিও চালায়নি মোদি সরকার। দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা ঘিরে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিলেও সব ধরনের রক্তপাত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। লাঠিচ…