বর্তমান বিশ্বে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বায়োটেকনোলজি বা জীবপ্রযুক্তি এক অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল গবেষণাগারের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়, বরং প্রকৃতি আর আধুনিক প্রযুক্তির এক নিবিড় মেলবন্ধন। ক্ষুদ্র কোষ এবং উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করাই এই বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য। মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যাগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধানের পথ দেখাচ্ছে এই প্রযুক্তি।
সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই মানুষ অজান্তে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসছে। দই তৈরি কিংবা পাউরুটিতে ইস্টের ব্যবহার এর প্রাচীন উদাহরণ। তবে আধুনিক বায়োটেকনোলজির প্রকৃত বিপ্লব ঘটে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ডিএনএর গঠন আবিষ্কারের পর। বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতেই উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বা নতুন গুণের সঞ্চার করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে জীবপ্রযুক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। মরণব্যাধি ক্যানসার, হেপাটাইটিস কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের চিকিৎসায় ইনসুলিন, জীবন রক্ষাকারী টিকা এবং উন্নত মানের অ্যান্টিবায়োটিক এখন এই প্রযুক্তিরই ফসল। বিশেষ করে জিন থেরাপির মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ জিন সংশোধন করে জন্মগত ত্রুটি নিরাময়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ গর্ভকালীন অবস্থাতেই অনেক জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাবে, যা শিল্প ও চিকিৎসাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
রিপোর্টারের নাম 

























