ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ক্রিপ্টোগ্রাফি ও কোড ব্রেকিং প্রযুক্তির পথিকৃৎ আল-কিন্দি

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানে সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হলো এনক্রিপশন। কোনো তথ্যকে গোপন সংকেতে রূপান্তর করার এই পদ্ধতি আধুনিক মনে হলেও এর গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু আগে। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে গোপন বার্তা আদান-প্রদানের জন্য এনক্রিপশনের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। তবে এনক্রিপ্ট করা সংকেত ভেঙে মূল বার্তা উদ্ধারের প্রক্রিয়া বা ‘কোড ব্রেকিং’ প্রযুক্তির পদ্ধতিগত রূপরেখা প্রথম তৈরি করেছিলেন নবম শতাব্দীর প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী আল-কিন্দি।

আল-কিন্দি তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘রিসালাহ ফি ইসতিখরাজিল মুআম্মা’-তে ক্রিপ্টোগ্রাফির যে বৈপ্লবিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা বর্তমানে ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস’ নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে কোনো ভাষায় ব্যবহৃত অক্ষরের পরিসংখ্যানগত হার বিশ্লেষণ করে গোপন বার্তার অর্থ উদ্ধার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজি ভাষায় ‘e’ অক্ষরটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তাই কোনো সংকেতে যে চিহ্নটি সবচেয়ে বেশি থাকবে, তাকে ‘e’ হিসেবে ধরে নিয়ে বার্তাটি উন্মোচন করা সম্ভব।

পবিত্র কুরআনের আরবি পাঠ ও শব্দশৈলী গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে গিয়েই আল-কিন্দি অক্ষরের এই স্বতন্ত্র ব্যবহারের হার লক্ষ্য করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর ‘এনিগমা’ কোড ভাঙার ক্ষেত্রেও আল-কিন্দির সেই মৌলিক ধারণাই ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও তার এই অবদান অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

ক্রিপ্টোগ্রাফি ও কোড ব্রেকিং প্রযুক্তির পথিকৃৎ আল-কিন্দি

আপডেট সময় : ০২:২৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানে সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হলো এনক্রিপশন। কোনো তথ্যকে গোপন সংকেতে রূপান্তর করার এই পদ্ধতি আধুনিক মনে হলেও এর গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু আগে। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে গোপন বার্তা আদান-প্রদানের জন্য এনক্রিপশনের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। তবে এনক্রিপ্ট করা সংকেত ভেঙে মূল বার্তা উদ্ধারের প্রক্রিয়া বা ‘কোড ব্রেকিং’ প্রযুক্তির পদ্ধতিগত রূপরেখা প্রথম তৈরি করেছিলেন নবম শতাব্দীর প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী আল-কিন্দি।

আল-কিন্দি তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘রিসালাহ ফি ইসতিখরাজিল মুআম্মা’-তে ক্রিপ্টোগ্রাফির যে বৈপ্লবিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা বর্তমানে ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস’ নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে কোনো ভাষায় ব্যবহৃত অক্ষরের পরিসংখ্যানগত হার বিশ্লেষণ করে গোপন বার্তার অর্থ উদ্ধার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজি ভাষায় ‘e’ অক্ষরটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তাই কোনো সংকেতে যে চিহ্নটি সবচেয়ে বেশি থাকবে, তাকে ‘e’ হিসেবে ধরে নিয়ে বার্তাটি উন্মোচন করা সম্ভব।

পবিত্র কুরআনের আরবি পাঠ ও শব্দশৈলী গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে গিয়েই আল-কিন্দি অক্ষরের এই স্বতন্ত্র ব্যবহারের হার লক্ষ্য করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর ‘এনিগমা’ কোড ভাঙার ক্ষেত্রেও আল-কিন্দির সেই মৌলিক ধারণাই ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও তার এই অবদান অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।