ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ বাতিলের সুপারিশে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, কেমন করে গুমের শিকার ভুক্তভোগী এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তারা এই আইন বাতিলের পরামর্শ দিচ্ছেন? তিনি আবেদন করেন, আইনটি যদি সংশোধন করার প্রয়োজন হয়, তবে প্রথমে অনুমোদিত করে আইনে পরিণত করা হোক এবং তারপর সংশোধিত করা হোক। অন্যথায় গুমের কোনো সংজ্ঞা থাকবে না।
রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, বিলটি আরও যুগোপযোগী করে চলতি অধিবেশন বা পরে সংসদে উত্থাপন করা হবে। অনির্ধারিত আলোচনায় মীর আহমাদ বিন কাসেম নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, তিনি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসেছেন, যেখানে তার মতো আরও শত শত লোককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের সকলের ফিরে আসার সৌভাগ্য হয়নি। তিনি সেই অন্ধকার ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন এবং মনে করতেন সেখানে তাদের হত্যা করা হবে। কথা বলার কেউ ছিল না, শুধু কীটপতঙ্গ-পিঁপড়া-টিকটিকির সঙ্গে কথা বলতেন। জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো এই অনুভূতি থেকে মৃত্যু হাজারগুণ ভালো মনে হতো।
তিনি আরও বলেন, যখন মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, একদিন রাতে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হচ্ছিল, তখন তিনি ধরে নিয়েছিলেন আজকেই তার মৃত্যু হবে এবং তিনি সূরা ইয়াসিন পড়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন যে কিছু বাচ্চা ছেলে জীবন দিয়ে, চোখ-পা হারিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করে তাদের আবার পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি এই সংসদকে মজলুমদের মিলন মেলা হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, গত ফ্যাসিস্ট আমলে এমন কেউ নেই যারা জুলুমের শিকার হয়নি। গুমের ভুক্তভোগী পরিবারদের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, ‘আমি স্তম্ভিত হয়েছি। আমাদের সঙ্গে যে জুলুম করা হয়েছিল তা যেন বাংলাদেশের মাটিতে না হয়, সে জন্য গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। বিশেষ কমিটি আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে।’
পরে পয়েন্ট অর্ডারে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা গুম হয়েছেন, তাদের কেউ স্বজন-ভাই-বোন-আত্মীয়-প্রতিবেশী-বা…
রিপোর্টারের নাম 
























