প্রযুক্তি বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি শক্তিশালী তিনটি নতুন এআই (AI) মডেল উন্মোচন করেছে মাইক্রোসফট। টেক্সট, ভয়েস ও ভিডিও তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন এই মডেলগুলোর মাধ্যমে কোম্পানিটি সরাসরি গুগল ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ জানাল। বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফট এআই-এর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চের মতে, ওপেনএআই-এর সঙ্গে গভীর পার্টনারশিপ থাকা সত্ত্বেও মাইক্রোসফটের এই নিজস্ব উদ্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে, তারা এআই প্রযুক্তির বাজারে এককভাবেও শীর্ষস্থানে থাকতে বদ্ধপরিকর। মাইক্রোসফটের দাবি, তাদের এই নতুন মডেলগুলোর প্রধান আকর্ষণ হবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য, যা ওপেনএআই বা গুগলের সমমানের মডেলগুলোর তুলনায় অনেক কম।
নতুন উন্মোচিত মডেলগুলোর মধ্যে ‘এমএআই-ট্রান্সক্রাইব-১’ (MAI-Transcribe-1) ২৫টি ভিন্ন ভাষার কথাকে দ্রুততম সময়ে টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে, যা মাইক্রোসফটের আগের ‘অ্যাজিউর ফাস্ট’ পরিষেবার তুলনায় ২.৫ গুণ দ্রুত। অডিও তৈরির জন্য আনা হয়েছে ‘এমএআই-ভয়েস-১’ (MAI-Voice-1), যা মাত্র এক সেকেন্ডের প্রসেসিংয়ে ৬০ সেকেন্ডের অডিও তৈরি করতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো ‘কাস্টম ভয়েস’ তৈরি করতে পারবেন। অন্যদিকে, ভিডিও তৈরির জন্য আনা হয়েছে ‘এমএআই-ইমেজ-২’ (MAI-Image-2), যা গত মাসে ‘এমএআই প্লেগ্রাউন্ড’ সফটওয়্যারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। বর্তমানে এই তিনটি মডেলই ‘মাইক্রোসফট ফাউন্ড্রি’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এই মডেলগুলো তৈরি করেছে মাইক্রোসফট এআই-এর সিইও মুস্তাফা সুলেইমানের নেতৃত্বাধীন ‘এমএআই সুপারইন্টেলিজেন্স’ গবেষণা দলটি। এক ব্লগ পোস্টে সুলেইমান জানান, তারা মূলত ‘হিউম্যানিস্ট এআই’ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, যেখানে মানুষের যোগাযোগের ধরণকে কেন্দ্র করেই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খরচের দিক থেকে ‘এমএআই-ট্রান্সক্রাইব-১’ ব্যবহারের ফি প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ০.৩৬ ডলার থেকে শুরু হচ্ছে। ‘এমএআই-ভয়েস-১’ মডেলটির খরচ প্রতি ১০ লাখ ক্যারেক্টারের জন্য ২২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও তৈরির মডেল ‘এমএআই-ইমেজ-২’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ লাখ টেক্সট ইনপুট টোকেনের জন্য ৫ ডলার এবং আউটপুট টোকেনের জন্য ৩৩ ডলার থেকে খরচ শুরু হবে। সাশ্রয়ী মূল্যের এই কৌশলী পদক্ষেপ এআই বাজারে মাইক্রোসফটকে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























