ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় একটি নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ইপিজেড স্থাপনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে এবং এটি কসবার সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কসবায় ইপিজেড স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইপিজেড স্থাপনে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ অঞ্চলের আশেপাশে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। আশুগঞ্জ নদীবন্দর আমদানি-রপ্তানির দ্রুততম রুট হিসেবে পরিচিত। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করেছে। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাস সরবরাহ উৎস। কসবা অঞ্চলের সালদা, কাশীরামপুর ও তারাপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহন—শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা এই অঞ্চলকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এ অঞ্চলের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর সহজ ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। ঢাকা তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা, সিলেট প্রায় তিন ঘণ্টা এবং ভারতের আগরতলা শহর মাত্র এক ঘণ্টার সড়ক পথ। দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে এমন সংযোগ যেকোনো বড় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অসাধারণ সুবিধা তৈরি করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে তিনি কসবার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর এলাকায় একটি ইপিজেড স্থাপনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তিনলাখপীর এলাকা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এবং আখাউড়া স্থলবন্দর ও আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের দূরত্বও সীমিত। সড়ক ও রেলপথে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের সহজ যোগাযোগের কারণে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য সরবরাহে এটি বিশেষ সুবিধা দেবে।
রিপোর্টারের নাম 























