টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়াসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন পানির নিচে। গত শনিবার রাত থেকে নতুন করে অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় মহানগরীর নিচু এলাকাগুলো আবারও জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভয়াবহ এই বন্যায় জেলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অনেক এলাকায় আড়াই হাজার মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। সাতকানিয়া উপজেলার অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। এখানকার অধিকাংশ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা এখনো ৫০ শতাংশ পানির নিচে। সড়ক ও কালভার্ট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। লোহাগাড়ায় বন্যার পানিতে লাশ ভাসিয়ে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
বন্যার্তদের সহায়তায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষ গবাদি পশু ও পরিবার নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে আরও সময় লাগতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















