ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি কাজে গতি আনতে সরকারের কড়া বার্তা: কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা

বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে সময়মতো উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছে। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি সেবার মান এবং কাজের গতি উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়ানুবর্তিতার ওপর জোর দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা অফিস উপস্থিতি ও সময়মতো কাজ ত্যাগের বিষয়ে কড়া নির্দেশনার পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের প্রধানরা কর্মীদের মধ্যে এই বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি বেড়েছে বলে সচিবালয়ে কর্মরতদের দাবি।

দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন থাকলেও সেগুলোর ব্যবহার তেমন ছিল না। নতুন সরকারের তৎপরতায় দেখা গেছে, কিছু মন্ত্রণালয়ে পুরনো মেশিনগুলো সক্রিয় করা হয়েছে এবং কর্মীদের আইডি নম্বর আপডেট করে ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ে নতুন করে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে আমরা নিয়মিত অফিস করতাম, তবে ডিজিটাল হাজিরা নিয়ে আগ্রহ তেমন ছিল না। এখন অফিসের উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা আছে। এ জন্য ডিজিটাল হাজিরা ঠিকঠাকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের কাজের আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের টিমের মাঝে বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী জানান, ‘আমরা আগে থেকেই সঠিক সময়ে অফিসে আসি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অফিস করার বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’ তিনি আগের চেয়ে কাজের গতি বেড়েছে বলেও জানান।

অনেকেই বলছেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করার পর প্রথম দিকে কয়েক মাস ঠিকঠাক চললেও পরে কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ কমে গিয়েছিল। সচিবালয়ে এই হাজিরা মেশিনগুলো শেখ হাসিনা সরকারের সময় স্থাপন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার আসার পরেও অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়মে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে সারা দেশের সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, বৈঠক নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা

সরকারি কাজে গতি আনতে সরকারের কড়া বার্তা: কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা

আপডেট সময় : ০৩:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে সময়মতো উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছে। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি সেবার মান এবং কাজের গতি উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়ানুবর্তিতার ওপর জোর দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা অফিস উপস্থিতি ও সময়মতো কাজ ত্যাগের বিষয়ে কড়া নির্দেশনার পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের প্রধানরা কর্মীদের মধ্যে এই বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি বেড়েছে বলে সচিবালয়ে কর্মরতদের দাবি।

দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন থাকলেও সেগুলোর ব্যবহার তেমন ছিল না। নতুন সরকারের তৎপরতায় দেখা গেছে, কিছু মন্ত্রণালয়ে পুরনো মেশিনগুলো সক্রিয় করা হয়েছে এবং কর্মীদের আইডি নম্বর আপডেট করে ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ে নতুন করে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে আমরা নিয়মিত অফিস করতাম, তবে ডিজিটাল হাজিরা নিয়ে আগ্রহ তেমন ছিল না। এখন অফিসের উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা আছে। এ জন্য ডিজিটাল হাজিরা ঠিকঠাকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের কাজের আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের টিমের মাঝে বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী জানান, ‘আমরা আগে থেকেই সঠিক সময়ে অফিসে আসি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অফিস করার বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’ তিনি আগের চেয়ে কাজের গতি বেড়েছে বলেও জানান।

অনেকেই বলছেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করার পর প্রথম দিকে কয়েক মাস ঠিকঠাক চললেও পরে কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ কমে গিয়েছিল। সচিবালয়ে এই হাজিরা মেশিনগুলো শেখ হাসিনা সরকারের সময় স্থাপন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার আসার পরেও অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়মে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে সারা দেশের সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।