ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পরিত্যক্ত ৫০ কোটি টাকার বিসিক শিল্পনগরী এখন জঙ্গলে ঢাকা, চুরি হচ্ছে সরঞ্জাম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ছয় বছর পরও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, পাশাপাশি চুরি হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি। ফলে এখানে একটি শিল্পকারখানাও চালু হয়নি।

উপজেলার উত্তরসুর এলাকায় প্রায় ২০ একর জমির ওপর ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হয়। শিল্পায়নের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই শিল্পনগরীতে ১২২টি প্লট, প্রশাসনিক ভবন, পাম্প হাউস, আবাসিক ভবন, ডাম্পিং ইয়ার্ড ও পুকুরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ নিশ্চিতের কথা থাকলেও বর্তমানে এসব সুবিধা কার্যত অচল। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্লট ও সড়ক ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। পিচঢালা সড়ক ভেঙে সেখানে ঘাস জন্মেছে, দ্বিতীয় প্রবেশপথ প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিল্পনগরীর গ্যাস সাবস্টেশন, বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। ড্রেনের লোহার জালি ও অন্যান্য ধাতব অংশও উধাও। ফলে অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিল্প কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে প্লটের উচ্চমূল্য, সেবার অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা। শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সদস্য মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু বলেন, শ্রীমঙ্গল ব্যবসাবান্ধব উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। কোটি টাকার শিল্পনগরী নির্মাণ করা হলেও তা এখনো চালু হয়নি, যা পরিকল্পনার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ।

তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের শর্তসাপেক্ষে প্লট দেওয়া হচ্ছে—দুই বছরের মধ্যে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

পরিত্যক্ত ৫০ কোটি টাকার বিসিক শিল্পনগরী এখন জঙ্গলে ঢাকা, চুরি হচ্ছে সরঞ্জাম

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ছয় বছর পরও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, পাশাপাশি চুরি হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি। ফলে এখানে একটি শিল্পকারখানাও চালু হয়নি।

উপজেলার উত্তরসুর এলাকায় প্রায় ২০ একর জমির ওপর ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হয়। শিল্পায়নের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই শিল্পনগরীতে ১২২টি প্লট, প্রশাসনিক ভবন, পাম্প হাউস, আবাসিক ভবন, ডাম্পিং ইয়ার্ড ও পুকুরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ নিশ্চিতের কথা থাকলেও বর্তমানে এসব সুবিধা কার্যত অচল। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্লট ও সড়ক ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। পিচঢালা সড়ক ভেঙে সেখানে ঘাস জন্মেছে, দ্বিতীয় প্রবেশপথ প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিল্পনগরীর গ্যাস সাবস্টেশন, বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। ড্রেনের লোহার জালি ও অন্যান্য ধাতব অংশও উধাও। ফলে অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিল্প কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে প্লটের উচ্চমূল্য, সেবার অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা। শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সদস্য মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু বলেন, শ্রীমঙ্গল ব্যবসাবান্ধব উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। কোটি টাকার শিল্পনগরী নির্মাণ করা হলেও তা এখনো চালু হয়নি, যা পরিকল্পনার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ।

তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের শর্তসাপেক্ষে প্লট দেওয়া হচ্ছে—দুই বছরের মধ্যে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে।