বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ (জেডিপি)। দলটি ৯০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে, যেখানে নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্য সচিব এবং মো. আহছান উল্লাহকে প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির আত্মপ্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। এ সময় দলটি ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে সামাজিক গণতন্ত্রভিত্তিক একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধান প্রণয়নের জোরালো দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিষদ গঠন, সংবিধান বাতিল, সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে দেশে যে তীব্র বিতর্ক চলছে, তার প্রেক্ষাপটে জেডিপি স্পষ্টভাবে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সামাজিক গণতন্ত্রভিত্তিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে দলটির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কেবল সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ আদালতের স্বীকৃত ‘মৌলিক কাঠামো’ তত্ত্বের কারণে সংসদে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনও পরবর্তীতে বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদে একটি সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান প্রণয়নই কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের মূলনীতিতে ‘সমাজতন্ত্র’-এর পরিবর্তে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে জেডিপির আহ্বায়ক বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর সংবিধান সংস্কার বিষয়ক অবস্থান ও জন আস্থার সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, গণপরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা সাংবিধানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ আপিল বিভাগ ইতোমধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























