ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের চিকিৎসা সেবায় প্রকট সংকট: মহামারি এলেই দৃশ্যমান হয় অব্যবস্থাপনার ক্ষত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে চরম সংকটে নিমজ্জিত, যা করোনা, ডেঙ্গু কিংবা সাম্প্রতিক হামের মতো মহামারির সময় বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দরনগরীতে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার অভাব এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে তুলেছে। বিশেষ করে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ৫০০ শয্যার এবং কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং এলাকায় ২৫০ শয্যার দুটি বড় হাসপাতাল নির্মাণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে রহস্যজনকভাবে স্থগিত হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই তথ্যে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অথচ নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় নতুন একটি হাসপাতাল নির্মাণের আলোচনা চললেও উপযুক্ত স্থানে হাসপাতাল নির্মাণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে এক যুগ আগে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আজও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিক্যাল জনবলের পদ সৃজন করা হয়নি, যার ফলে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ ফৌজদারহাট সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট বিদ্যমান। বর্তমানে রোগ নির্ণয়ের সাধারণ পরীক্ষার জন্যও রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সবচেয়ে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন আগুনে পোড়া রোগীরা। চমেক হাসপাতালের ২৬ বেডের বার্ন ইউনিটে নেই কোনো আইসিইউ সুবিধা, অপারেশন ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল।

ফলে ২০ শতাংশের বেশি দগ্ধ রোগীকে বাধ্য হয়ে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করতে হয়। সম্প্রতি হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথেই প্রাণ হারাতে হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগের জন্য বারবার উচ্চ পর্যায়ে চিঠি দিলেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে নানা আশার বাণী শোনালেও মাঠপর্যায়ে সেটির কোনো প্রতিফলন নেই, যা চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনই আমাদের মূল লক্ষ্য: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের চিকিৎসা সেবায় প্রকট সংকট: মহামারি এলেই দৃশ্যমান হয় অব্যবস্থাপনার ক্ষত

আপডেট সময় : ১২:৩২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে চরম সংকটে নিমজ্জিত, যা করোনা, ডেঙ্গু কিংবা সাম্প্রতিক হামের মতো মহামারির সময় বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দরনগরীতে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার অভাব এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে তুলেছে। বিশেষ করে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ৫০০ শয্যার এবং কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং এলাকায় ২৫০ শয্যার দুটি বড় হাসপাতাল নির্মাণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে রহস্যজনকভাবে স্থগিত হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই তথ্যে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অথচ নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় নতুন একটি হাসপাতাল নির্মাণের আলোচনা চললেও উপযুক্ত স্থানে হাসপাতাল নির্মাণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে এক যুগ আগে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আজও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিক্যাল জনবলের পদ সৃজন করা হয়নি, যার ফলে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ ফৌজদারহাট সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট বিদ্যমান। বর্তমানে রোগ নির্ণয়ের সাধারণ পরীক্ষার জন্যও রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সবচেয়ে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন আগুনে পোড়া রোগীরা। চমেক হাসপাতালের ২৬ বেডের বার্ন ইউনিটে নেই কোনো আইসিইউ সুবিধা, অপারেশন ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল।

ফলে ২০ শতাংশের বেশি দগ্ধ রোগীকে বাধ্য হয়ে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করতে হয়। সম্প্রতি হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথেই প্রাণ হারাতে হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগের জন্য বারবার উচ্চ পর্যায়ে চিঠি দিলেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে নানা আশার বাণী শোনালেও মাঠপর্যায়ে সেটির কোনো প্রতিফলন নেই, যা চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।