ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রেল ক্রসিংয়ে দুই জমজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, বিক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের মধুখালীতে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় তামিদ ও তাহিদ নামে দুই সহোদর জমজ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে নওপাড়া ইউনিয়নের ভূষণা লক্ষণদিয়া রেল ক্রসিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা ওই এলাকার আকাশ শেখের প্রথম সন্তান ছিল, যা তাদের বাবা-মা সহ পুরো পরিবারকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রাজবাড়ী থেকে ভাটিয়াপাড়া অভিমুখে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন ভূষণা লক্ষণদিয়া রেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। এই সময় শিশু দুটি অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হতে গেলে চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়, যা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই রেল ক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় প্রতি বছরই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হচ্ছে। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী।

একজন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও রেল কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। যদি এই রেল ক্রসিংয়ে দ্রুত একজন গেটম্যান বা নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে আজ দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যু হতো না এবং কোনো মায়ের কোল খালি হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।

দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে রেল অধিদপ্তরের (পশ্চিম অঞ্চল) প্রধান কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উত্তেজিত জনতা রেল ক্রসিংয়ে স্থায়ী নিরাপত্তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেতুর অভাবে রংপুরের তারাগঞ্জে ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

রেল ক্রসিংয়ে দুই জমজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, বিক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৯:১৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালীতে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় তামিদ ও তাহিদ নামে দুই সহোদর জমজ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে নওপাড়া ইউনিয়নের ভূষণা লক্ষণদিয়া রেল ক্রসিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা ওই এলাকার আকাশ শেখের প্রথম সন্তান ছিল, যা তাদের বাবা-মা সহ পুরো পরিবারকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রাজবাড়ী থেকে ভাটিয়াপাড়া অভিমুখে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন ভূষণা লক্ষণদিয়া রেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। এই সময় শিশু দুটি অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হতে গেলে চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়, যা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই রেল ক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় প্রতি বছরই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হচ্ছে। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী।

একজন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও রেল কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। যদি এই রেল ক্রসিংয়ে দ্রুত একজন গেটম্যান বা নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে আজ দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যু হতো না এবং কোনো মায়ের কোল খালি হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।

দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে রেল অধিদপ্তরের (পশ্চিম অঞ্চল) প্রধান কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উত্তেজিত জনতা রেল ক্রসিংয়ে স্থায়ী নিরাপত্তার জোর দাবি জানিয়েছেন।