সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাপে বর্তমানে “ধীরে চলো” নীতি গ্রহণ করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত জ্বালানি ও খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার বর্তমানে কৃচ্ছতা সাধনের পথে হাঁটছে। এর অংশ হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ ও বিলাসদ্রব্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে যখন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও ফ্যামিলি কার্ডের ভর্তুকি খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই খবরে সংক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি মনে করছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া এই ‘প্রলম্বিত দায়’ বর্তমান সরকারের ওপর এক ধরনের অন্যায্য চাপ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং এনবিআর-এর রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এই বিপুল আর্থিক ঘাটতি ও আইএমএফ-এর সতর্ক বার্তার মুখে নতুন স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আজ ৫ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন স্কেল না আসায় নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার নতুন পে-স্কেল দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কোনো অবকাশ নেই। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ রাখা হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























