ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ইরান ইস্যুতে কানাডার দ্বৈত নীতি: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইরানকে ঘিরে কানাডার নীতি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা উঠেছে। একদিকে দেশটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বললেও, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পদক্ষেপের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের অভিযোগ উঠছে। এই দ্বৈত নীতি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ডাভোসে এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায়ভিত্তিক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ডে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই এবং মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তবে সমালোচকদের মতে, কানাডার বাস্তব নীতি তাদের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান ইস্যুতে কানাডা একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ বলে ইঙ্গিত করলেও, অন্যদিকে এসব পদক্ষেপের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে, যা একটি নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও মিত্রদের পাশে থাকার অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। এই ধরনের নীতি শুধু ইরান নয়, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, গাজা ও লেবাননের মতো বিভিন্ন ইস্যুতেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি একই ধরনের নীরব সমর্থন বা নির্বাচিত প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল করে এবং বৈশ্বিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, একদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের কথা বলা হলেও, অন্যদিকে সেই নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখালে তা বিশ্বব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি করে। বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে ‘রুলস-বেইজড অর্ডার’ বা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, এবং এতে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

ইরান ইস্যুতে কানাডার দ্বৈত নীতি: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৯:০০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে কানাডার নীতি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা উঠেছে। একদিকে দেশটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বললেও, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পদক্ষেপের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের অভিযোগ উঠছে। এই দ্বৈত নীতি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ডাভোসে এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায়ভিত্তিক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ডে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই এবং মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তবে সমালোচকদের মতে, কানাডার বাস্তব নীতি তাদের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান ইস্যুতে কানাডা একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ বলে ইঙ্গিত করলেও, অন্যদিকে এসব পদক্ষেপের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে, যা একটি নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও মিত্রদের পাশে থাকার অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। এই ধরনের নীতি শুধু ইরান নয়, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, গাজা ও লেবাননের মতো বিভিন্ন ইস্যুতেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি একই ধরনের নীরব সমর্থন বা নির্বাচিত প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল করে এবং বৈশ্বিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, একদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের কথা বলা হলেও, অন্যদিকে সেই নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখালে তা বিশ্বব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি করে। বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে ‘রুলস-বেইজড অর্ডার’ বা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, এবং এতে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।