বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ রিট আবেদন জমা পড়েছে। অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান, বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট যৌথভাবে এই রিট আবেদন করেছেন।
রিটকারীদের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ এবং অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান শুনানিতে অংশ নেবেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অসুস্থ প্রাণীর মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
রিটে গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিয়ে সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৬০ দিনের মধ্যে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম বন্ধ এবং উদ্ধার করা প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠারও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি গাজীপুরে একটি তুলা কারখানাকে অবৈধ জবাইখানা হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, আটটি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিল। পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ ও যক্ষ্মার মতো রোগের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এই দূষিত মাংস গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছিল। যদিও কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ ও পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছিল, বাস্তবে তার ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। পরবর্তীতে একটি মোবাইল কোর্ট গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
রিপোর্টারের নাম 




















