ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

মা দিবস এলেই আমরা মায়েদের অবদান স্মরণ করি এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে সচেষ্ট হই। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি কি আমরা কখনও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি? পরিবারের খাবারের টেবিলে মায়েদের পুষ্টি ও সুস্থতার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের সবাইকে খাইয়ে দেওয়ার পর মায়েদের পাতে যা পড়ে থাকে, তা পরিমাণে কম বা গুণগত মানের দিক থেকে অপেক্ষাকৃত কম ভালো।

আমাদের সমাজে এমন ধারণা প্রচলিত যে, মায়েরা নিজেদের প্রয়োজনকে সবার শেষে রাখেন। মাছের ভালো টুকরা, মাংসের সুস্বাদু অংশ, কিংবা গরম মুচমুচে পরোটা – এসবের বেশিরভাগই পরিবারের পুরুষ সদস্য বা সন্তানদের জন্য বরাদ্দ থাকে। মায়েরা নীরবে নিজেদের পছন্দ বা প্রয়োজনকে বিসর্জন দেন, যা দিনের পর দিন তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মধ্যবিত্ত পরিবারে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যে সংসার চালাতে গিয়ে মায়েরা স্বল্প আহারের যে অভ্যাস গড়ে তোলেন, তা পরবর্তীতে আর পরিবর্তন করতে পারেন না।

নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মায়েদের অবস্থা আরও করুণ। তারা প্রায়শই নিজেদের খাবার বাঁচিয়ে সন্তানদের মুখে তুলে দেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়েরা অনেক সময় নিজেদের জন্য পাওয়া খাবারও বাসায় থাকা সন্তানের জন্য নিয়ে যান। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারলে কোনো মা-ই নিজে তৃপ্ত হন না। এই নীরব আত্মত্যাগ আমাদের সমাজের এক চিরচেনা চিত্র।

মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, বিশ্রাম, আরাম ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাদের সুস্থতা ও ভালো থাকা যেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুস্থতার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পরিবারের ভিত্তিই হলো মায়েদের সুস্থতা ও শক্তি। এই উপেক্ষিত দিকটি আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে এবং মায়েদের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মা দিবস এলেই আমরা মায়েদের অবদান স্মরণ করি এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে সচেষ্ট হই। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি কি আমরা কখনও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি? পরিবারের খাবারের টেবিলে মায়েদের পুষ্টি ও সুস্থতার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের সবাইকে খাইয়ে দেওয়ার পর মায়েদের পাতে যা পড়ে থাকে, তা পরিমাণে কম বা গুণগত মানের দিক থেকে অপেক্ষাকৃত কম ভালো।

আমাদের সমাজে এমন ধারণা প্রচলিত যে, মায়েরা নিজেদের প্রয়োজনকে সবার শেষে রাখেন। মাছের ভালো টুকরা, মাংসের সুস্বাদু অংশ, কিংবা গরম মুচমুচে পরোটা – এসবের বেশিরভাগই পরিবারের পুরুষ সদস্য বা সন্তানদের জন্য বরাদ্দ থাকে। মায়েরা নীরবে নিজেদের পছন্দ বা প্রয়োজনকে বিসর্জন দেন, যা দিনের পর দিন তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মধ্যবিত্ত পরিবারে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যে সংসার চালাতে গিয়ে মায়েরা স্বল্প আহারের যে অভ্যাস গড়ে তোলেন, তা পরবর্তীতে আর পরিবর্তন করতে পারেন না।

নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মায়েদের অবস্থা আরও করুণ। তারা প্রায়শই নিজেদের খাবার বাঁচিয়ে সন্তানদের মুখে তুলে দেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়েরা অনেক সময় নিজেদের জন্য পাওয়া খাবারও বাসায় থাকা সন্তানের জন্য নিয়ে যান। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারলে কোনো মা-ই নিজে তৃপ্ত হন না। এই নীরব আত্মত্যাগ আমাদের সমাজের এক চিরচেনা চিত্র।

মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, বিশ্রাম, আরাম ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাদের সুস্থতা ও ভালো থাকা যেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুস্থতার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পরিবারের ভিত্তিই হলো মায়েদের সুস্থতা ও শক্তি। এই উপেক্ষিত দিকটি আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে এবং মায়েদের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।