ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই জন রিমান্ডে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান তানভীর নাছিফ এবং তার সঙ্গে থাকা মাইক্রোবাস চালক রুবেল মিয়াকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (১১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করলেও, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১ মে একই মামলায় আদালত তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফারহান তানভীর নাছিফ (২৪) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হলের ২০৯ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকার কর্তৃক ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত শনিবার ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল। তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কথিত ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ এসময় ফারহান তানভীর নাছিফ ও রুবেলকে একটি মাইক্রোবাসসহ আটক করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ২০-২৫ জন পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের জামিন দিলে তারা পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই জন রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান তানভীর নাছিফ এবং তার সঙ্গে থাকা মাইক্রোবাস চালক রুবেল মিয়াকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (১১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করলেও, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১ মে একই মামলায় আদালত তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফারহান তানভীর নাছিফ (২৪) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হলের ২০৯ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকার কর্তৃক ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত শনিবার ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল। তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কথিত ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ এসময় ফারহান তানভীর নাছিফ ও রুবেলকে একটি মাইক্রোবাসসহ আটক করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ২০-২৫ জন পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের জামিন দিলে তারা পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।