ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মুসলিমদের ওপর চাপানো যাবে না: হেফাজতে ইসলামের দাবি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আসন্ন পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক আখ্যা দিয়েছেন। বুধবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের একটি কৌশলী প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক। আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্ত্রীর দাবিকে অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লামা সাজেদুর রহমান আরও বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ বসে থাকবেন না। তিনি বলেন, বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির মূল হওয়া উচিত।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং শুরু থেকেই এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে একটি বিশেষ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠী ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রাখে এবং হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। তিনি অভিযোগ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের সরকারের পতনের পর সেই গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মুসলিমদের ওপর চাপানো যাবে না: হেফাজতে ইসলামের দাবি

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আসন্ন পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক আখ্যা দিয়েছেন। বুধবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের একটি কৌশলী প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক। আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্ত্রীর দাবিকে অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লামা সাজেদুর রহমান আরও বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ বসে থাকবেন না। তিনি বলেন, বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির মূল হওয়া উচিত।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং শুরু থেকেই এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে একটি বিশেষ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠী ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রাখে এবং হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। তিনি অভিযোগ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের সরকারের পতনের পর সেই গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।