সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের তোলা ৬২ বিধির মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, বিগত ১৭ বছর ধরে উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিগত দেড় বছর ধরেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিচার ও সংস্কারের বিষয়গুলো চাপা পড়ে গিয়েছিল। এমনকি ভোটের কালি না শুকাতেই উন্নয়নের নতুন বুলি শুনিয়ে জুলাই সনদকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদে তিনি আরও বলেন, আমাদের সন্তানেরা সেদিন রাস্তায় নেমে প্রশ্ন তুলেছিল ‘আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েছি?’ সেদিন তারা বুকে গুলি বিদ্ধ হয়ে, পা হারিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে লিখেছিল ‘রাস্তা সংস্কার নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে’। আমরা যেন সংস্কারের বিষয়টি মাথায় নিতে পারছি না, বরং সংশোধনের দিকে যাচ্ছি। এই সংশোধনের জন্য আমাদের তরুণ যুবকেরা কাজ করেনি। সংশোধনের জন্য সেদিন শেখ হাসিনাও প্রস্তাব করেছিলেন, ২৪ ঘণ্টা দরজা খোলা আছে তোমরা সংশোধনের জন্য এসো। কিন্তু ছাত্র-জনতা সেদিন সংশোধন নয়, সংস্কারের কথা বলেছিল। আজ কেন আমরা সংস্কারের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছি?
মাসুদ বলেন, আমরা প্রয়োজনটাকে সংবিধানের ধারাবাহিকতার মধ্যে আটকে ফেলেছি। আমরা সংবিধানের দাঁড়ি-কমা, সেমি-কোলন খুঁজছি। আমাদের ৩০ দিনের মধ্যে যা করার কথা ছিল, তা না করে খালখনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিকার্ডে গুরুত্ব দিয়েছি। অথচ যে মূল কারণে আমরা নির্বাচন করে এখানে কথা বলার সুযোগ পেলাম, সেদিকে কেন নজর দিতে পারলাম না?
তিনি আরও বলেন, ৫১ শতাংশ মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাহলে আমরা কি সেই ১৭ বছরের মতো উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে মূল জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছি? আমরা সবার আগে বাংলাদেশকেই দেখছি না। আমাদের আশঙ্কা ও উৎকণ্ঠার জায়গাটা এখানেই। ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক এবং ৪২টি জেলা পরিষদ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কি সরকারি দলের বাইরে কোনো যোগ্য লোক খুঁজে পাইনি? আমরা কি এখানে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার মতো কাউকে পেলাম না? আমরা কি সেই নতুন বাংলাদেশের পথে যেতে পেরেছি?
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রশাসক নিয়োগকে গণতন্ত্রবিরোধী বলেছিলাম, আর এখন গণতান্ত্রিক সরকারের সময় নিজ দলীয় লোকদের নিয়োগ দিচ্ছি।
রিপোর্টারের নাম 

























