ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের পাম্পে পাম্পে তেলের জন্য হাহাকার: রেশনিং ও কড়া নজরদারিতেও মিলছে না জ্বালানি

চট্টগ্রামের জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নগরী ও জেলার পাম্পগুলোতে ‘অকটেন নেই’ অথবা ‘তেল নেই’ সংবলিত নোটিশ ঝুলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হাহাকার বিরাজ করছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ তলানিতে নেমে আসায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলা প্রশাসন প্রতিটি স্টেশনে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ বিভাগ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল বিক্রি না করার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় গত মার্চ মাসের শুরু থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকার মাঝে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নিলেও ২৩ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে আবারও সংকট তীব্র হয়। বর্তমানে নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, লালখান বাজার ও জিইসি মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্প দিনে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও এখন নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য তেল বিক্রি করছে। ডিলারদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেক তেলও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় সময়মতো পে-অর্ডার করতে না পারায় তেল উত্তোলনও ব্যাহত হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ট্যাগ অফিসাররা সরাসরি পাম্পে অবস্থান করে তেল বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং তেলের অপচয় বা মজুদ রোধে এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে রাইড-শেয়ারিং ও সাধারণ যানবাহন চালকরা বলছেন, রেশনিং পদ্ধতিতে তেল পাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

চট্টগ্রামের পাম্পে পাম্পে তেলের জন্য হাহাকার: রেশনিং ও কড়া নজরদারিতেও মিলছে না জ্বালানি

আপডেট সময় : ০১:১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নগরী ও জেলার পাম্পগুলোতে ‘অকটেন নেই’ অথবা ‘তেল নেই’ সংবলিত নোটিশ ঝুলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হাহাকার বিরাজ করছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ তলানিতে নেমে আসায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলা প্রশাসন প্রতিটি স্টেশনে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ বিভাগ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল বিক্রি না করার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় গত মার্চ মাসের শুরু থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকার মাঝে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নিলেও ২৩ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে আবারও সংকট তীব্র হয়। বর্তমানে নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, লালখান বাজার ও জিইসি মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্প দিনে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও এখন নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য তেল বিক্রি করছে। ডিলারদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেক তেলও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় সময়মতো পে-অর্ডার করতে না পারায় তেল উত্তোলনও ব্যাহত হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ট্যাগ অফিসাররা সরাসরি পাম্পে অবস্থান করে তেল বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং তেলের অপচয় বা মজুদ রোধে এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে রাইড-শেয়ারিং ও সাধারণ যানবাহন চালকরা বলছেন, রেশনিং পদ্ধতিতে তেল পাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।