ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদা দাবি ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক কাগজ ব্যবসায়ীকে মারধর, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৫৩) গতকাল রোববার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ ও ৭ মার্চ মদীনানগর এলাকায় দুটি ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয় একটি ক্লাবে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনায় ইমতিয়াজ আহমেদ শাকিল, হালিম মিয়া, আজগর ও সজলসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে এক ব্যক্তির মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এবং বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করে স্থানীয় থানায় খবর দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা আসলে চুরির সাথে জড়িত ছিলেন না। এই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তরা তার কাছে ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৫ মার্চ দুপুরে সাবান ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত চক্রটি এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা এবং জমি দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। হামলার পর উল্টো তার নামেই থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, গত ২৭ ও ২৮ মার্চ পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায় এবং তার মেয়ে রুবাইয়া ইসলামকেও অপদস্থ করে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৭০২) দায়ের করেছিলেন। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিআইএন থাকলেও রিটার্ন জমা দেননি ৭৮ লাখ মানুষ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি এনবিআরের

কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদা দাবি ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:১১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক কাগজ ব্যবসায়ীকে মারধর, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৫৩) গতকাল রোববার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ ও ৭ মার্চ মদীনানগর এলাকায় দুটি ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয় একটি ক্লাবে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনায় ইমতিয়াজ আহমেদ শাকিল, হালিম মিয়া, আজগর ও সজলসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে এক ব্যক্তির মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এবং বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করে স্থানীয় থানায় খবর দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা আসলে চুরির সাথে জড়িত ছিলেন না। এই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তরা তার কাছে ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৫ মার্চ দুপুরে সাবান ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত চক্রটি এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা এবং জমি দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। হামলার পর উল্টো তার নামেই থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, গত ২৭ ও ২৮ মার্চ পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায় এবং তার মেয়ে রুবাইয়া ইসলামকেও অপদস্থ করে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৭০২) দায়ের করেছিলেন। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।