ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদে মূলতবি প্রস্তাব, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপন

সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত জরুরি বিষয় উত্থাপন করে জাতীয় সংসদে মূলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। রোববার বিকেলে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবনার সঙ্গে তিনি বিগত সাড়ে ১৭ বছরে যারা জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সংসদ কোনো গতানুগতিক বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়নি, বরং একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে এর উদ্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংসদ সদস্যরা প্রায় সকলেই একসময় ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে ছিলেন এবং অনেকেই কারাবাস করেছেন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। একটি ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে অনেককে জেলে রেখে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে তরুণ প্রজন্মের দাবি উপেক্ষা এবং দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তারা জীবনবাজি রেখে লড়াই শুরু করেন, যার নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই আন্দোলন দলমত নির্বিশেষে সকল মজলুম মানবতার সমর্থন লাভ করেছিল। এই সফল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের সংসদ গঠিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎপাটন করা এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধ করা। এই উদ্দেশ্যেই সকলে মিলে সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাক্ষর করে সংসদে এসেছেন।

জামায়াতের আমির হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন এই নোটিশটি দিতে হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নির্ধারিত ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে আহ্বান করা হয়নি, যা আইনে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টি তিনি গত ১৫ মার্চ সংসদে উত্থাপন করেছিলেন এবং স্পিকার এ বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিআইএন থাকলেও রিটার্ন জমা দেননি ৭৮ লাখ মানুষ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি এনবিআরের

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদে মূলতবি প্রস্তাব, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপন

আপডেট সময় : ১০:০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত জরুরি বিষয় উত্থাপন করে জাতীয় সংসদে মূলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। রোববার বিকেলে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবনার সঙ্গে তিনি বিগত সাড়ে ১৭ বছরে যারা জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সংসদ কোনো গতানুগতিক বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়নি, বরং একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে এর উদ্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংসদ সদস্যরা প্রায় সকলেই একসময় ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে ছিলেন এবং অনেকেই কারাবাস করেছেন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। একটি ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে অনেককে জেলে রেখে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে তরুণ প্রজন্মের দাবি উপেক্ষা এবং দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তারা জীবনবাজি রেখে লড়াই শুরু করেন, যার নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই আন্দোলন দলমত নির্বিশেষে সকল মজলুম মানবতার সমর্থন লাভ করেছিল। এই সফল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের সংসদ গঠিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎপাটন করা এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধ করা। এই উদ্দেশ্যেই সকলে মিলে সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাক্ষর করে সংসদে এসেছেন।

জামায়াতের আমির হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন এই নোটিশটি দিতে হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নির্ধারিত ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে আহ্বান করা হয়নি, যা আইনে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টি তিনি গত ১৫ মার্চ সংসদে উত্থাপন করেছিলেন এবং স্পিকার এ বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করেছিলেন।